ঢাকা: গোটা বাংলাদেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হল ঈদ। যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে চামড়া পাচার রুখতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। যশোরের শার্শা উপজেলার শিকারপুর, কাশিপুর, রঘুনাথপুর, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, সাদিপুর, ঘিবা, বাঁগআচড়ার গোগা, রুদ্রপুর, অগ্রভুলোট, দাদখালি সীমান্তকে কোরবানির পশুর চামড়া পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙখলা বাহিনী। আর সে কারণেই এই সমস্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।

বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে রাজার হাটে প্রায় ২০ কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হয়। ঈদের পর সীমান্ত পথে চামড়া পাচার বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বেনাপোলের চামড়া ব্যবসায়ী মনির হোসেন, বাগআচড়ার ইদ্রিস আলী সাহাজি, জামতলার নজরুল ইসলাম শাহাজি ও নাভারনের ইয়াকুব আলীও এই আশঙ্কার কথা বলেছেন।

বাগআঁচড়ার চামড়া ব্যবসায়ী শেখ সহিদুল ইসলাম বলেন, “পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের পুঁজি সঙ্কটের সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তারা বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করে। পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারীদের কাছে তুলে দেয়।”

শার্শা সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার ঠেকাতে ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি তল্লাশি চৌকি তৈরির কথা জানিয়েছেন বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক শুকদেব রায় ও বেনাপোল বন্দর থানার এসআই আব্দুল লতিফ এসআই লতিফ বলেন, সীমান্তে বিজিবি ও র‌্যাবের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি সীমান্ত অভিমুখে চামড়া বোঝাই যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী পুলিশ ফাঁড়িগুলোকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শার্শা উপজেলার সীমান্তে সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্তের সব বিওপি ক্যাম্পগুলোকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। ঈদের দিন বিকাল থেকে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।