স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজঅ করার অনুমতি জোগাড় করতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য। কিন্তু বাংলার পরিবেশ ও বাংলার মানুষের স্বার্থে তা যেন যে কোনও মূল্যেই করতে না দেওয়া হয় সেই আবেদন বাংলা পক্ষের। তাঁরা তাঁদের এই দাবী জানিয়েছে ন্যাশানাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালকেও।

ছট পুজো নিয়ে বাংলাপক্ষ মনে করে, ‘বাংলার পরিবেশ বাঁচানোর দায়িত্ব বাঙালির। বিধ্বংসী আম্ফানের সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কলকাতা সহ পুরো দক্ষিণবঙ্গে, কেন্দ্র সরকার যার ১% ক্ষতিপূরণও দেয়নি। পরিবেশ ভয়ংকর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, লাখ লাখ গাছ উপড়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস রবীন্দ্র সরোবরকে বাঁচানো আশু প্রয়োজন, আমাদের সকলের কর্তব্যও। পরিবেশ বাঁচলে তবেই আমরা সকলে বাঁচবো। যে কোনও মূল্যে তাই রবীন্দ্র সরোবরকে বাঁচাতেই হবে। গত বছর ছট পুজোর সময় আইন লঙ্ঘন করে রবীন্দ্র সরোবরে যে উন্মত্ততা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না৷ বাংলা পক্ষ ধিক্কার জানায়।’

তাঁরা এও মনে করে ‘দক্ষিণ কলকাতায় বিহার থেকে আগত যেসকল মানুষ থাকেন তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠাণ আছে। আমরা কারোরই ধর্মচারণের বিরুদ্ধে না। গতবছরে রাজ্য সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করেছিল, তাও যদি যথেষ্ট না হয় দক্ষিণ কলকাতায় আসা বিহারীদের জন্য বাংলার সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করুক৷ নিয়ম শৃঙখলা মেনে তারা নিজেদের ধর্মচারণ করুক। বাঙালি জাতি বড় হৃদয়ের পরিচয় দিয়ে চায় ওরা সভ্য মানুষের মতো নিয়ম মেনে নিজেদের ছট পুজো করুক, কোনো বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।’

বাংলা পক্ষের আরও জানিয়েছে, ‘যে কোনও সৌহার্দ্যই একতরফা হয় না। আমরা আশা রাখবো বাংলায় অবস্থিত ছট উৎসবকারীরা বিহার ও ইউপির সরকারের কাছে আবেদন করবে যাতে বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ গোটা উত্তর ভারতে থাকা বাঙালির দুর্গাপুজোর জন্য একই রকম উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়। বাঙালিরও নিজস্ব উৎসব ও ধর্মচারণ আছে। অন্য রাজ্যে বাঙালির দুর্গাপুজো বন্ধের কথা ভবিষ্যতে শুনতে পাবো না- এই আশা রাখি। ভালোবাসা দুতরফা হয়, একতরফা না৷ এই সব রাজ্যে বাঙালির উৎসব বা ধর্মচারনে সেখানকার সরকার যেমন পদক্ষেপ নেবে- বাংলার বাঙালি ভবিষ্যতে সে পথেই চিন্তা ভাবনা করবে।’

তাদের দাবী , ‘দুর্গাপুজোর ভাসানের উপর সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নিরামিষ ব্যবস্থা আরোপ বন্ধ করতে হবে দিল্লী, ইউপি, হরিয়ানা, গুজরাটে দুর্গাপুজো মন্ডপ তথা বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় জোর করে আমিষ নিষিদ্ধ করা চলবে না। সাম্প্রতিক কালে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিজেপির গুন্ডাদের সাহায্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া বাঙালির দুর্গামন্ডপ সেখানকার রাজ্য সরকারি অর্থে গড়ে দিতে হবে।’

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।