স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বন দপ্তরে ‘বনসহায়ক’ পদে অস্থায়ী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। যেখানে নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে এই পদে আবেদনের জন্য অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বাংলা লিখতে, পড়তে এবং বলতে জানতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তিকে বাংলা পক্ষ তাদের বাংলা আন্দোলনের বিশেষ জয় বলে মনে করছে।

নিয়োগের জন্য যে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষাটি হবে তার মধ্যে ৬০ নম্বর রয়েছে বাংলায়। বাংলা পড়তে পারার জন্য রয়েছে ৩০ নম্বর এবং বাংলা লিখতে পারার জন্য রয়েছে ৩০ নম্বর। এটিকেই বাংলাপক্ষ তাদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। বাংলাপক্ষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পশ্চিমবঙ্গে চাকরি পেতে হলে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি চাকরির পরীক্ষায় বাংলাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

তাঁরা বনদফতর এবং রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে আরও জানান বাংলাভূমে বাঙালিদের স্বার্থের জন্য তাঁদের এই লড়াই জারি থাকবে। বাঙালি তার অধিকার বুঝে নেবে।

বাংলা পক্ষ জানিয়েছে , ‘এই সাফল্য যুগান্তকারী। কারণ বাঙালির এই দাবি বাংলার মাটির দাবি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ২১ জুলাই এর ভাষণের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই কথা রাখলেন। বাংলার ভূমিপুত্রদের প্রতি রাজ্য সরকার যে দায়বদ্ধ, এই সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট। চাকরি প্রার্থীরা সকলেই এই বিজ্ঞপ্তি দেখে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’

সংগঠনের পক্ষে জানানো হয়েছে ‘বাংলা পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই এই লড়াই লড়ছে। বাংলা পক্ষর মূল দাবিই হল সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক করা এবং বেসরকারি চাকরিতে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ। এই নিয়ে সব সময়ই সোচ্চার তারা৷

বাংলা পক্ষ সংগঠন এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। রাজ্য সরকার বাঙালির ভোটে নির্বাচিত, তাই রাজ্য সরকার থেকে সব চাকরির পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক করবে- বাঙালি এটাই আশা করে। আগামীতে পিএসসিতে ১০০ নম্বরের বাংলা বাধ্যতামূলক করার আন্দোলন আরও জোরদার হবে।’

তারা মনে করছে, ‘এই সাফল্যের পর আগামীতে বাংলার সব সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (WBCS, WBPS এর নিয়োগের পরীক্ষা সহ) বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক করার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ হবে বাংলা পক্ষ।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ