স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : বন সহায়কের চাকরিতে বাংলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এই দাবি নিয়েই এবার রণে নামছে বাংলাপক্ষ। তাঁরা এই দাবি দাবি জানিয়ে বনমন্ত্রীকে গণ ইমেল পাঠাবে বলে জানিয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দাবি না মানলে এত ই-মেল যাবে মন্ত্রীর কাছে যে তিনি এই দাবি মানতে বাধ্য হবেন। সেই ভাবনা মাথায় নিয়েই তাঁরা নেমে পড়েছেন।

বাংলাপক্ষ মনে করছে বনদফতরের বন সহায়কের চাকরি বাংলা ও বাঙালি বিরোধী। তাই ৪ আগস্টে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে হবে। এবং বাংলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এই দাবি জানাচ্ছে বাংলাপক্ষ। বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জীকে এই সংগঠন জানিয়েছে, ‘গত ৩০জুলাই আপনার দফতর ‘বন সহায়ক’ নামক পদে অস্থায়ী চাকরিতে ২০০০ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। চাকরির পরীক্ষা ১০০ নম্বরের, তার মধ্যে বাংলা পড়তে পারা (৩০ নম্বর) এবং বাংলা লেখা (৩০ নম্বর) অর্থাৎ মোট ৬০ নম্বর বাংলা বাধ্যতামূলক ছিল। যা বাংলায় অত্যন্ত স্বাভাবিক, কারণ আমাদের রাজ্য ভাষার ভিত্তিতে তৈরি রাজ্য, এ রাজ্যের ৮৬% বাসিন্দা বাঙালি (২০১১ র আদমশুমারী অনুযায়ী)। বাংলার সকল বাঙালি আপনাকে অকুন্ঠ ধন্যবাদ জানিয়েছিল।’

সমস্যা এর পরের বিজ্ঞপ্তিতে সৃষ্টি হয়। দাবী, ৪ আগস্ট বনদফতর সেই বিজ্ঞপ্তি বদলে দেয়। যেখানে ৬০ নম্বর বাংলা বাধ্যতামূলক ছিল, সেটাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় বাংলা সহ বাংলায় সকল সরকারি ভাষায় এই ৬০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এবং ১০ নম্বরের হিন্দি বা ইংরেজি পরীক্ষা দিতে হবে। বাংলাপক্ষ মনে করছে , ‘এই নয়া বিজ্ঞপ্তির অর্থ ভয়ঙ্কর। একজন হিন্দিভাষী শুধুমাত্র হিন্দি জেনে বাংলায় সরকারি চাকরি পেতে পারে, কিন্তু বাঙালি শুধুমাত্র বাংলা জেনে এই বাংলায় সরকারি চাকরি পাবে না। বাঙালিকে বাংলার সাথে হিন্দি বা ইংরেজি জানতেই হবে। যা বাংলা ও বাঙালির ব্যাপক ক্ষতি করবে।’

কেন তাঁরা এমন মনে করছেন। তাঁরা স্পষ্ট ভাবে বলছেন , ‘ভারতের প্রতিটা রাজ্যে সরকারি চাকরিতে সে রাজ্যের মূল সরকারি ভাষা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক সরকারি ভাষা থাকলেও মূল সরকারি ভাষার পেপার বাধ্যতামূলক হয়। যেমন গুজরাটে গুজরাটি, মহারাষ্ট্রে মারাঠি, তামিলনাড়ুতে তামিল, ওডিশায় ওডিয়া, বিহারে হিন্দি, উত্তর প্রদেশে হিন্দি, পাঞ্জাবে পাঞ্জাবি। কিন্তু একমাত্র বাংলায় বাংলা বাধ্যতামূলক না। ২০১১-র আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলায় মাত্র ৭% হিন্দিভাষী, ১.৮২ শতাংশ উর্দু এবং ১.২ শতাংশ নেপালী ভাষার মানুষ আছেন। সকলে নিজের ভাষায় পরীক্ষা দিতে পারবে এই রাজ্যে, যা অস্বাভাবিক। এমনকি বাংলায় পাঞ্জাবিও সরকারি ভাষা, পাঞ্জাবিতে পরীক্ষা দিয়েও ‘বন সহায়কে’-এর চাকরি পাওয়া যাবে, তা বাংলা ও বাঙালির জন্য বিপদজনক।’

সংগঠনের পক্ষে জানানো হচ্ছে, ‘বাঙালি অন্য কোনও রাজ্যে সরকারি চাকরি পায় না, সম্ভব না। এমনকি এত বাঙালি থাকা সত্ত্বেও ঝাড়খন্ড ও আন্দামানে বাংলায় চাকরির পরীক্ষা হয় না। কিন্তু বাংলায় শুধুমাত্র হিন্দি, উর্দু, নেপালী জেনে কেউ চাকরি পেতে পারে। সব রাজ্য সেই রাজ্যের ভূমিজ জাতির স্বার্থ দেখলেও বাংলায় বাঙালি বঞ্চিত, নিজের রাজ্যেই বঞ্চিত। গত ২১জুলাই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর বাঙালি যুবক-যুবতীরা নতুন করে বাংলার সবকিছুতে বাঙালির অধিকার সুরক্ষিত থাকার কথা ভেবেছিল ৷ কিন্তু এক্ষেত্রে তার বিপরীত ঘটতে থাকায় চাকরিপ্রার্থী সমস্ত বাঙালি যুবক-যুবতী সপরিবারে ক্ষোভে ফুঁসছে।’

বাংলাপক্ষের স্পষ্ট দাবী, ‘১)বন সহায়কের চাকরিতে বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং গত ৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে হবে। ২) বাংলার কয়েকটি জেলার বাস্তবতা অনুযায়ী অন্যান্য ভূমিজ জাতির ভাষার পরীক্ষা নিতে হবে, হিন্দি-উর্দু তে না। আপনি বাংলা ও বাঙালির প্রতিনিধি।’

 

বনমন্ত্রীর কাছে তাঁদের আবেদন, ‘বাংলা ভাষা ও বাঙালির স্বার্থে কাজ হওয়া প্রয়োজন। এই ভারতে বাঙালি সব দিক থেকে বঞ্চিত, অত্যাচারিত। নিজের রাজ্যেও এভাবে বঞ্চিত হলে বাঙালির ভবিষ্যত খুব খারাপ হবে। বাংলা দখল করবে বহিরাগতরা। যা মেনে নেওয়া সম্ভব না। বাঙালি ছাত্র-যুবদের স্বপ্নকে এভাবে হত্যা করবেন না।’

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা