নয়াদিল্লি:  ফের ধাক্কা তৃণমূলে। সত্যি হতে চলেছে তৃণমূলের প্রাক্তন চাণক্য মুকুলের পূর্বাভাস। এক এক করে বিজেপিমুখী শাসকদল তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। গত ৪৮ ঘন্টায় তৃণমূলকে ধাক্কা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শাসকদলের দুই বিধায়ক। প্রথমে নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং এরপর বনগাঁ বিধানসভার বিধায়ক বিশ্বজিত দাস। তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ১২জন পুর কাউন্সিলর। মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর পুরসভাও হাতছাড়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বিশ্বজিত দাস। তিনি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আমি অনেকদিন থেকেই বিজেপির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছিলাম। মনে মনে সমর্থনও করছিলাম বিজেপিকে। কারণ যে আদর্শ নিয়ে আমরা তৃণমূলে কাজ করতে এসেছিলাম তা থেকে দল সরে গিয়েছে বলেই দাবি বিশ্বজিতবাবুর।

একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এখনকার তৃণমূল কংগ্রেস সেই মতাদর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সারা দেশেই সবকা সাথ, সবকা বিকাশের নীতি নিয়ে কাজ করছেন। এই উন্নয়নই এখন পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন সদ্য তৃণমূল ছাড়া বনগাঁর এই বিধায়ক।

অন্যদিকে যোগদান পর্ব নিয়ে বিজেপি নেতাদের দাবি, এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে রাজ্যের ১২১টি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস হেরে গিয়েছে। যেগুলিতে জিতেছে, সেখানেও বিজেপি তার ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে একে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। কিন্তু যেভাবে এখনও পর্যন্ত শতাধিক তৃণমূল কাউন্সিলার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটা তো এখনও কিছুই না। আগামীদিনে খেলা আরও বাকি আছে বলে দাবি দিল্লির বিজেপি নেতাদের।

প্রসঙ্গত, ভোট প্রচারে গিয়ে বারবার রাজ্যে ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৪২টি আসনেই তৃণমূলের জয়ের দাবি তুলেছিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, বিজেপি বাংলায় একটা আসনও পাবে না বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু গত ২১ শে মে ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় অভাবনীয় ভাবে বাংলায় বিজেপি ঝড়। এক ধাক্কায় ২ থেকে ১৮টি আসনে পৌঁছে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যে এভাবে বিজেপির বাড়বাড়ন্তে যথেষ্ট চিন্তার ভাঁজ পড়েছে খোদ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে।

একদিকে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের উত্থান অন্যদিকে ক্রমশ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের সংখ্যা বাড়ছে। আর সেই তালিকায় শাসকদলের বিধায়ক থেকে সাধারণ নেতা-কর্মীরা তো রয়েছেই। ইতিমধ্যে বিজেপির হাতে এসেছে ভাটপাড়া, বনগাঁ, গাড়ুলিয়া পুরসভা সহ একাধিক পুরসভা। ইতিমধ্যে সেই সমস্ত পুরসভার কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগদান করেছে। যদিও মুকুল দায় দাবি করেছেন, শুধু দুই কিংবা তিনটে নয়, আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই বহু পুরসভাই তাঁদের হাতে চলে আসবে। শুধু তাই নয়, ধাপে ধাপে শাসকদলের বহু বিধায়কই বিজেপিতে চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।