বালুরঘাট: ভিক্ষাবৃত্তিচক্রের হাত থেকে হিন্দিভাষী দুই নাবালককে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো বালুরঘাটে। জিহ্বা না থাকায় কথা বলতে পারে না এই অভিনয় করে বালুরঘাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষে করছিল দুই শিশু। হাত দিয়ে আকার ইঙ্গিতে কথা বলতো তারা, আর এভাবেই তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করত। কেউ তাঁদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে থাকা শংসাপত্র দেখাতো তারা। ঘটনাটি নজরে পড়ে জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক জয়িতা মুখোপাধ্যায়ের। দুইটি শিশুরই জিহ্বা না থাকা ও তাদের অভিনয়ে তাঁর সন্দেহ হয়। বছর আটেক বয়সী শিশু দুটির কাছে থাকা শংসাপত্র ও তাদের অভিনয় দেখে সন্দেহবশতঃ তাদের দুজনকে জেরা করতেই তাঁরা মুখ দিয়ে কথা বলতে শুরু করে এবং পরীক্ষা করে দেখা যায় মুখের ভেতর যথারীতি স্বাভাবিক জিহ্বাও রয়েছে। চাইল্ড লাইন ও শিশু সুরক্ষা দফতরের অভিযোগ, এই দুটি শিশুই ভিক্ষাবৃত্তি চক্রের শিকার। চক্রের সদস্যরা দূরে থেকে তাঁদের দিয়ে এই ভাবে ভিক্ষে করিয়ে পয়সা রোজগার করছে দিনের পর দিন।

আরও পড়ুন: মৃত শিশুকে ‘রেফার’ করে দায় এড়ালেন চিকিৎসক

প্রশাসনসূত্রে জানা গিয়েছে এদিন সকালে বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল চত্বর ও বেলতলাপার্ক এলাকায় শার্ট ও ফুলপ্যান্ট পরিহিত দুই শিশু ভিক্ষে করতে গিয়ে আকার ইঙ্গিতে ইশারায় বুঝিয়ে দেয় তাদের জিহ্বা কাটা। তাদের হাতে থাকা একটি হলুদ রঙের ছাপানো কার্ডে অশোকস্তম্ভের সিল লাগানো রয়েছে। সেই শংসাপত্রে লেখা রয়েছে তাদের যেন মুক্তহস্তে অর্থদান করা হয়। ঘটনাটি নজরে আসতেই শিশু সুরক্ষা আধিকারিক নিজে জেলা চাইল্ডলাইনের প্রতিনিধিদের ডেকে ওই দুই শিশুকে তাদের হাতে তুলে দেন। চাইল্ড লাইনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বালুরঘাট থানায় লিখিত ভাবে জানানো হলে পুলিশ, চক্রের মূলপান্ডাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে৷

আরও পড়ুন: ইন্টারনেটের কুপ্রভাব রুখতে বালুরঘাটের ছাত্রদের নয়া যন্ত্র

দক্ষিণ দিনাজপুর চাইল্ডলাইনের কো-অর্ডিনেটর সুরোজ দাস জানিয়েছেন উদ্ধার করা শিশু দুটিকে বালুরঘাট থানায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ তাদের দুজনের নাম ঠিকানা জানতে চাইলে সেখানেও তারা পুলিশের সামনে কথা না বলতে পারার ভান করে। থানা থেকে তাদের দুজনকে চাইল্ডলাইনের অফিসে এনে জেরা করতে শুরু করলে আচমকা মুখ ফসকে কথা বলে বসে দুজনই। তাদের কাছ থেকে কাগজে লেখা মোবাইল নম্বরে ফোনও করা করা হয়। উল্টো দিকে একজন পুরুষ ফোন ধরে কথা বলেন। তাকে বেশি প্রশ্ন করতেই ফোনের লাইন কেটে দেন। জেরার মুখে ওই দুই শিশু জানিয়েছে তাদের বাড়ি আসানসোলে। সেখান থেকে বড়দের সঙ্গে রামপুর এলাকায় এসে ঘাঁটি গেড়েছে তারা। রামপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভিক্ষে করছিল বলে তারা স্বীকার করেছে। কাদের সঙ্গে রামপুর এলাকায় এসেছে তারা, এই চক্রে আর কে কে রয়েছে তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলেও চাইল্ডলাইনের কো-অর্ডিনেটর জানিয়েছেন।

- Advertisement -