স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট:  ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে মাটির নিচের ভুগর্ভস্ত জলের ভাণ্ডার। যার ফলে গভীর জল সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। বর্তমান প্রজম্ন থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে জল কষ্ট না ভোগ করে সেই বিষয়ে একাধিক উদ্যেগ নিতে দেখা গিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সরকারকে।

শুধু তাই নয়, পরিবেশ-জল সমস্যার কথা বারবার উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক স্তরের জলবায়ু সম্মেলনের মঞ্চে। সেখান থেকেও সমগ্র বিশ্বকেই পরিবেশ সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা। এবার ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশেও জল সংকটের আশঙ্কা।

দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুর ঘাটে গরমকালে গভীর জল সংকটের সমস্যায় পড়েন এই জেলার মানুষেরা। জানা গিয়েছে, বাংলায় যথেষ্ট জলের ভাণ্ডার থাকতেও দক্ষিন দিনাজপুর জেলার মানুষদের বছরের অন্য সময়ে তুলনামুলক ভাবে কম হলেও গ্রীষ্মকালে গভীর জল সংকটের সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। এই রাজ্যে যেভাবে জলাভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে বা পুকুর, জলাশয় বুজিয়ে যেভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে এই জেলাতেও দেশের অন্যন্য অংশের মত খরাক্লিষ্ট অবস্থা জলের হাহাকার শুরু হয়ে যাবে। সেই দিন যে আর খুব বেশি দূরে নেই সেই নিয়ে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন দেশের ওয়াটার ম্যান ডঃ রাজেন্দ্র সিং।

দেশের ওয়াটার ম্যান আরও জানিয়েছেন, এখনও আমাদের হাতে অনেক সময় রয়েছে ভবিষ্যৎ’এর জলের হাহাকার রোধ করার পথ। তিনি আরও বলেন এই বিষয়ে সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। আগামীতেও এই রাজ্যে চরম জল সংকটের আশঙ্কার কথা শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি সতর্ক বার্তা পাঠান দেশের ওয়াটারম্যান রাজেন্দ্র সিং।

দক্ষিন দিনাজপুরের জীবনরেখা আত্রেয়ী নদীকে তাঁর বর্তমান রুগ্ন অবস্থা থেকে উদ্ধারের পথ দেখাতে এসেছিলেন তিনি। স্থানীয় পরিবেশ প্রেমী এবং এক সংগঠনের আহ্বানে তিনি দক্ষিন দিনাজপুর জেলার আত্রেয়ী নদী পরিদর্শনের পাশাপাশি টাঙ্গন এবং পুনর্ভবা নদীও পরিদর্শন করেন। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশের নদী গুলির অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কে সকলকে সচেতন করতে বালুরঘাটের একটি সেমিনারেও অংশ নেন ওয়াটার ম্যান।

জানা গিয়েছে, রবিবারের সেমিনারে রাজ্যের ভবিষ্যৎ জলকষ্ট সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রাচীনকালে এই বাংলাই জলের জন্য সমৃদ্ধ অঞ্চল বলে পরিচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, এখন এপ্রিল, মে মাস আসতেই শুরু হয়ে যায় এখানে আরও জলের সংকট। অথচ বছরে এখানে গড়ে প্রায় ১৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। তবুও জলের সমস্যা মেটানো যাচ্ছেনা। কেন এই জলের অভাব তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই ওয়াটার ম্যান। জল সংকট নিয়ে অবিলম্বে রাজ্যসরকারকে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা করার কথাও তিনি জানান। যাতে সরকারিভাবে সংরক্ষিত এই জলাভূমি গুলো সারাবছর জলেই পরিপূর্ণ থাকে। কোনও ভাবেই তা যেন জবরদস্তি দখল বা বেআইনি ভাবে কেউ বাড়ি নির্মাণ না করতে পারেন সেই বিষয়েও রাজ্যসরকারকে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন তিনি।

রবিবারের সেমিনারে উপস্থিত হয়ে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করেই সেমিনারে আগত পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন মানুষ তথা পরিবেশ প্রেমীদের উদ্দ্যেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা দিদিকে বলুন তিনি যেন এই রাজ্যের সমস্ত জল এবং নদীস্বাক্ষর করে তোলেন । তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজ্যসরকারের উচিত দায়িত্ব নিয়ে কৃষি চাষের পদ্ধতির পরিবর্তনের পাশাপাশি জল নিয়ে আইন প্রনয়ন করে এবার থেকে সব জায়গাতেই জলস্বাক্ষর অভিযান শুরু করা। এছারাও আত্রেয়ীর রুগ্ন দশার সমস্যার সমাধান করতে কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারকে সরাসরি আলোচনাই বসার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে সংসদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে আত্রেয়ীর করুন দশা তুলে ধরার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

জপ্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাঁধ দেওয়ার নিয়ম অমান্য করে বাংলাদেশ তাঁদের সীমান্তের মধ্যে আত্রেয়ী নদীতে যে অবৈধ ভাবে বাঁধ দিয়েছে তাঁর ফলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এপারের আত্রেয়ী নদীতে জল শুকিয়ে যেতে বসেছে। যার জেরে সমস্যায় পড়েছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার স্থানীয় মৎস্যজীবি মানুষেরা। কারন এই নদীর মাছ ধরেই পেট চালাতে হয় তাঁদের। বর্তমানে নদীর জল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ মরে যাচ্ছে এছারাও আছে আরও অন্যান্য সমস্যাও যার জেরে এই পেশা ছেড়ে তারা ভিন রাজ্যে পা- বাড়াছে কাজের আশায়।

এই বিষয়ে কিছুটা আশার আলো দেখিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে রাজ্যসরকারের উচিত পুরাতন তথা প্রাচীন যে জলাভূমি গুলি রয়েছে সেগুলিকে নথিভুক্ত এবং সংরক্ষিত করে রাখার ব্যবস্থা।