বালুরঘাটঃ অন্য সংগঠনের প্ররোচনায় পা দিয়ে শিল্পের উন্নয়নে বাধাদানকারী শ্রমিকরা পঞ্চায়েতের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। বিশেষ করে যে সকল শ্রমিকরা নকশালপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলনের নামে কারখানাগুলিতে অশান্তি সৃষ্টি করছেন তাঁদের তালিকা তৈরি করা হবে। সেই তালিকা দেওয়া হবে পঞ্চায়েতকে। তালিকায় থাকা শ্রমিকদের সরকারি বাড়ি প্রকল্পের কোন সুযোগই দেওয়া হবে না। একদিকে শিল্পের অগ্রগতি। আরেক দিকে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় শ্রমিক সংগঠনকে মজবুত করতে এই নিদানই শোনালেন আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতি মজিরুদ্দিন মন্ডল।

মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের ফুলবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কল্যাণী সলভেক্স এর নিকট তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি অর্পিতা ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কপাল থেকে শিল্পবিহীন জেলার তকমা ঘোচাতে বিশিষ্ট শিল্পপতি দীনদয়াল কল্যাণী ধানের তুষ থেকে উৎপন্ন রাইসবার্ন ভোজ্য তেলের কারখানা। কল্যাণী সলভেক্স নামক সেই কারখানায় উৎপাদিত তেল সঠিক গুনগত মানের জোরে শুধু ভারতেই নয় বাংলাদেশ ভুটান সহ অন্যান্য দেশেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সম্প্রতি এই কারখানায় শ্রমিক আন্দোলনের নামে মাঝে মধ্যেই তেল উৎপাদনে বাধা সৃষ্টির চেষ্ঠা চলছে। কারখানার মালিক পক্ষের দাবী শ্রমিকদের নায্য মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান সত্ত্বেও নকশালপন্থী বহিরাগত কিছু নেতার উস্কানীতে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এই ঘটনায় জেলার শিল্পদ্যোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন। নকশালপন্থী নেতাদের প্ররোচনায় পা দেওয়া শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে মঙ্গলবার সেখানে পথাসভার আয়োজন করা হয়।

আইএনটিটিইউসির সভাপতি মজিরুদ্দিন মণ্ডল এদিনের সভায় বলেন দক্ষিণ দিনাজপুরকে ফের শিল্পবিহীন জেলায় পরিনত করতে চাইছে বহিরাগত কিছু লোক। তাঁরা নিজেদের নকশালপন্থী পরিচয় দিয়ে এখানকার কারখানা গুলির শ্রমিকদের যাঁরা আইএনটিটিইউসি সাথে যুক্ত। তাঁদের ভূল বুঝিয়ে আন্দোলনের নামে কারখানাগুলিকে অচল করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এব্যাপারে প্রতিরোধ গড়ে তুলে পুনরায় আইএনটিটিইউসি’কে মজবুত করতে সংগঠনের  থেকে ৪৮টি ইউনিট তৈরির কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। যার অন্যতম লক্ষ্যই হলো বিভিন্ন কারনে সংগঠন থেকে বিমুখ শ্রমিকদের পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে আনা।

এদিন তিনি এই অভিযোগও করেন যে নকশালপন্থীদের প্ররোচনায় পা দেওয়া এমন অনেক শ্রমিক রয়েছেন যাঁরা গ্রামে গিয়ে নিজেদের তৃণমূলের লোক বলে জাহির করে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এবার থেকে তাঁদের আর সেই চালাকি চলবে না। পুনরায় আইএনটিটিইউসিতে ফিরে না আসলে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বন্টন করা সরকারি প্রকল্প গুলির কোন সুবিধা তাঁদের দেওয়া হবে না বলেও তিনি নিদান দিয়েছেন।