শংকর দাস, বালুরঘাট: মহাকাশ গবেষণার পীঠস্থান থেকে আন্তর্জাতিক সম্মান জিতে ফিরল বালুরঘাটের পাঁচ পড়ুয়া। গত ১৫ এপ্রিল আমেরিকায় কেনেডি স্পেস রিসার্চ সেন্টার ও নাসা’য় আয়োজিত কনফারেন্সে ডাক পেয়েছিল বালুরঘাটের একটি বেসরকারি স্কুলের এই পাঁচ পড়ুয়া।

২০১৮-তে মহাকাশ সম্পর্কে প্রবন্ধ লিখে সফল হয়েছিল এরা। এরপরই আমন্ত্রণ আসে। গত ১০ এপ্রিল স্কুলের পাঁচ ছাত্রী বিমানে পাড়ি দিয়েছিল আমেরিকার কেনেডি স্পেস সেন্টারে। সেখানে তাঁদের বিভিন্ন আলোচনা ও প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণও করানো হয়।

পাশাপাশি নাসা’তে নিয়ে গিয়ে মহাকাশচারীদের সাথে মুখোমুখি আলাপ আলোচনা ছাড়াও মহাকাশ সম্বন্ধীয় সিনেমাও তাদের দেখানো হয়েছে।

১৫ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টারের কনফারেন্স হলে আয়োজিত প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের যে ক’জন অংশ নিয়েছিল। তাতে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সায়েন্স প্রতিযোগিতায় অঙ্কন চক্রবর্তীকে আন্তর্জাতিক বিজেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় অঙ্কন চক্রবর্তীকে ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে পড়াশোনার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওই ইনস্টিটিউটের তরফে তাঁকে বৃত্তি হিসেবে বছরে দশ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

অঙ্কন বাদেও বালুরঘাটের এই স্কুলের বৈদেহী মন্ডল পেয়েছে কল্পনা চাওলা অ্যাওয়ার্ড। পাশাপাশি ডেইজি চৌধুরী ও সৌরজিতা কর পেয়েছে স্পেস এক্সপ্লোরার এওয়ার্ড। এব্যাপারে নাসার তরফে তাঁদের স্মারক ও শংসাপত্রও দেওয়া হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল তাঁরা বালুরঘাটে ফিরে এলে স্কুলের পড়ুয়া ও শিক্ষক মহলে শুরু হয়েছে আন্দোৎসব।

কল্পনা চাওলা অ্যাওয়ার্ড জয়ী বৈদেহী মন্ডল জানিয়েছে যে প্রথম দিন তাঁদের কেনেডি স্পেস সেন্টারে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সামিল করানো হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন বাসে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নাসাতে। সেখানে মহাকাশ সম্বন্ধীয় অ্যানিমেটেড সিনেমা দেখানোর পাশাপাশি নভোচারী ক্যাপ্টেন উইস্টন ই স্কট ও ইন্টারন্যাশনাল স্পেস রিসার্চ ডঃ ডোনাল্ড টমাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়েছে। মহাকাশে গিয়ে নভোচারী দু’জনের অভিজ্ঞতার কথাও শোনে তাঁরা। পুরো সফরটা তাঁদের খুবই অনুপ্রাণিত করেছে ভবিষ্যতে মহাকাশ সম্বন্ধীয় বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করা ও মহাকাশচারী হওয়ার ব্যাপারে।

স্কুলের প্রিন্সিপাল কাকলি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গো-ফর-গুরু নাসা অ্যাস্ট্রোনট মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ও ফ্লোরিডা ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের জন্য এই ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সায়েন্স কনফারেন্সের আয়োজন হয়েছিল। আমেরিকার কেনেডি স্পেস সেন্টারের এই কনফারেন্স বিশ্বের অন্যান্য দেশের পড়ুয়ারাও অংশ নিয়েছিল। সেখানে এদেশ থেকে মোট ২৫ জন অংশ নেয়। তাঁদের মধ্যে এই স্কুলের একজন ইন্টারন্যাশনাল উইনার ও বাকি তিনজন অন্যান্য অ্যাওয়ার্ড জিতেছে।