স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট : শুরু হয়ে গিয়েছে মাতৃপক্ষ। জোরকদমে চলছে পুজো মণ্ডপ উদ্বোধনের কাজ। শহর থেকে শহরতলি, অসুর বৃষ্টির বজ্রআঁটুনি উপেক্ষা করে পুজো কমিটিগুলি শুরু করে দিয়েছে দুর্গা পুজোর শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। কিন্তু বাঙালির আনন্দে এবার যে বৃষ্টি বাধ সাধবে তা আগে থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। পুজো শুরুর মুখে তবুও বর্ষার বিদায় নেওয়ার নাম নেই এখনও৷

শারদোৎসবে মাতৃপক্ষের শুরু থেকেই বিশেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুরের পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে অসুর রূপেই দেখা দিয়েছিল এই নিম্নচাপ। গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বিরামহীন বারিধারা। যার ফলে কমবেশি পরিমানে বৃষ্টি হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছিল প্যান্ডেল ও প্রতিমা শিল্পীদের সবারই। অকালের এই বৃষ্টির কারনে সব থেকে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে এই জেলার দুর্গা পুজো আয়োজকদের।

জানা গিয়েছে, এবারে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে প্রায় পাঁচশো দুর্গা পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর, এর মধ্যে শুধুমাত্র বালুরঘাট মহকুমাতেই রয়েছে দুশো’রও বেশি পুজো। জানা গিয়েছে, বালুরঘাট, হিলি ও গঙ্গারামপুর এই তিন শহর মিলিয়ে বিগ বাজেটের পুজোর সংখ্যা পঞ্চাশটির মতো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুজোর আয়োজন সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস আগে থেকেই অধিকাংশ পুজো কমিটি প্রতিমা ও প্যান্ডেল তৈরী কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু এতদিন সব কিছু ঠিকঠাকই চললেও বাপের বাড়িতে উমার আগমনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবের প্রস্তুতিতে বাধ সাধে অকাল বৃষ্টি। নিম্নচাপের কারণে গত শনিবার থেকে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বৃষ্টি শুরু হয় দক্ষিণ দিনাজপুরেও। বিরামহীন সেই বৃষ্টি সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জারি থাকায় প্যান্ডেল নির্মাতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সকলেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।

রাত পেরিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে অসুররূপী নিম্নচাপের মেঘ সরে যাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তির হাসি ফুটেছে পুজো উদ্যোগক্তাদের মুখে। জানা গিয়েছে, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে প্যান্ডেলের বাইরের কাজ পুরোপুরিই বন্ধ ছিল এই জেলায়।

বালুরঘাটের চকভৃগু এলাকার একটি ক্লাবের প্যান্ডেলে ভেতর ও বাইরে জলে জলাকার হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার সমস্ত পুজো প্যান্ডেলেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে থিম তথা মণ্ডপ তৈরির কাজ। বিগত তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে প্যান্ডেল ও প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যাঘাত ঘটলেও মঙ্গলবারের রোদ ঝলমলে আকাশ দেখে বিশেষ করে বিগ বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারা সকলেই আশাবাদী যে পঞ্চমীর আগেই কাজ সম্পন্ন করে ফেলতে পারবেন তাঁরা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে গত তিন দিনে দক্ষিণ দিনাজপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরে মোট ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মাঝিয়ানে অবস্থিত কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র গবেষক ডঃ জে কারফর্মা জানিয়েছেন, যে এই জেলায় সব চাইতে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে সোমবার।

বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ১২৫ মিলিমিটার। শনিবার ও রবিবার যথাক্রমে ২৬.৮ ও ১৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এখনও আশ্বিনের আকাশে মেঘ যে কাটছে না তার পূর্বাভাস আগেই দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিসের খবর অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত হালকা থেকে অতিহাল্কা বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জেলাজুড়ে ।

এদিকে বালুরঘাটের বিগ বাজেটের পুজো গুলির অন্যতম প্রগতি সংঘের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জন কুন্ডু জানিয়েছেন, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে তাঁদের প্যান্ডেল তৈরির কাজ অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ফের একটু রোদ ওঠায় পুরোদমে সেই কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগামী দুইদিন যদি সেইভাবে অঝোর ধারায় বৃষ্টি না হয় তাহলে প্যান্ডেল-প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করে দিতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।