স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট : শহর দুর্ঘটনা মুক্ত৷ এমনই দাবি সক্রিয় ট্রাফিক পুলিশের। অবশ্য সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ একশতাংশ নিশ্চিত করতে সারা বছর নানান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। হেলমেট পড়ে বাইক ও সিটবেল্ট লাগিয়ে গাড়ি চালানোর নানা ভাবে প্রচারও হয়েছে।

প্রচারের পালা শেষে এবার রাস্তায় নেমে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে ট্রাফিক পুলিশ আরও সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যেই বালুরঘাট শহর সহ থানার বিভিন্ন এলাকায় যখন তখন মোবাইল চেকিং ও স্পিড লেজার গান বসিয়ে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রন ও সুরক্ষা বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে।

বালুরঘাটের থানামোড়, বাসস্ট্যান্ড মোড়, পতিরামের বাহিচা মোড় ছাড়াও শহরের বিভিন্ন অলিগলিতেও মুখ্যমন্ত্রীর সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হচ্ছে। বালুরঘাট ট্রাফিক অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে নাকা চেকিং ও মোবাইল চেকিং শুরু হওয়ার পর প্রতি মাসে জরিমানা বাবদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে।

হেলমেট পড়া ও সিটবেল্ট লাগানো বাধ্যতা মূলক ও গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রনে সক্রিয় হওয়ায় এবছর বালুরঘাট থানা এলাকায় বড়সড় দুর্ঘটনা এখনও অবধি ঘটেনি৷ বালুরঘাট শহর ও তার আশপাশের এলাকায় একাধিক নাকা-চেকিং পয়েন্টের পাশপাশি মোবাইল চেকিং পোস্টও তৈরী করেছে। তাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।

বালুরঘাট শহরের যত্রতত্র বিভিন্ন রাস্তায় মোবাইল চেকিং শুরু হওয়ায় পথে হেলমেটহীন বাইক চালকের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। শুধু বাইক চালকই নয়। পেছনে বসে থাকা আরোহীর মাথাতেও হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি বাইক চালকের পায়ে অবশ্যই সু অথবা বুট আবশ্যিক। আরোহীর মাথায় হেলমেট ও চালকের পায়ে সু থাকার নিয়ম আগে থেকে থাকলেও এতদিন সেক্ষেত্রে সেভাবে জরিমানা করা হচ্ছিল না। শুধু দুর্ঘটনা কমানোই নয়, জরিমানা প্রদানকারীদের হয়রানি কমাতে স্পটেই তা মিটিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

বালুরঘাট ট্রাফিকের ওসি উৎপল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ-এর কারণে বিগত কয়েক মাসে পথদুর্ঘটনা অনেকটাই কমে গিয়েছে। ট্রাফিক আইন না মানলে ও গাড়ির সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্র না থাকলেই জরিমানা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন রাস্তায় স্পিড লেজার গান বসিয়ে চলন্ত গাড়িগুলির গতি মাপার কাজও চলছে। এতেই সুরক্ষার সাফল্য এসেছে শহরের পথ চলায়৷