ঋষি দাস, বালুরঘাট: মোদী-মমতা ও হাসিনার  ঢাকা বৈঠকের দিকে তাকিয়ে বালুরঘাট পুরসভা। বালুরঘাট শহরের প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার যে কাজ বছর দুয়েক আগে পুরসভা গ্রহণ করেছিল তা বাস্তবায়ন এখন নির্ভর করছে ঢাকার বৈঠকের উপর। কেন্দ্র সরকারের দেওয়া প্রায় একশ চল্লিশ কোটি টাকার এই প্রকল্পে আত্রেয়ী নদী থেকে জল নিয়ে তা পরিশ্রুত করে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে রিজার্ভার তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও আত্রেয়ীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বালুরঘাট পুরসভা। সীমান্তের ওপারে দিনাজপুর জেলার  মোহনপুর এলাকায়  বাংলাদেশ সরকার বাঁধ দিয়ে স্রোত আটকে দেওয়ায় বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীর জল শুকিয়ে গিয়েছে। আত্রেয়ীকে বাঁচাতে বালুরঘাট শহরে আন্দোলনের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় পুরসভাও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিকট লিখিত অনুরোধ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, জেলার পরিবেশ প্রেমীরাও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিকট মাস খানেক আগে আবেদন করেছেন। তাই নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবারের বাংলাদেশ সফর তথা ঢাকার বৈঠক নিয়ে দারুন ভাবে আশাবাদী বালুরঘাটের মানুষজন।

ইতিহাস প্রসিদ্ধ এই নদী দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাণরেখা। নদীর দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কুমারগঞ্জ, পতিরাম, চকভৃগু ও বালুরঘাটের মত জনবসতি গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর বিশেষ করে খরার মরশুমে জেলার অন্যান্য নদীগুলি শুকিয়ে গেলেও আত্রেয়ী জল পূর্ণই থাকত। সম্প্রতি এই নদীর জলস্রোত একেবারেই কমে গিয়েছে। জলস্তর কমে যাওয়ার এই ব্যাপারটি সর্বপ্রথম নজরে এসেছে আত্রেয়ীর মৎসজীবী ও দুইপারের কৃষিজীবী মানুষদের। যাঁদের জীবনযাত্রা আত্রেয়ীর জলের উপর নির্ভর করে।

জেলার পরিবেশ প্রেমিরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কারণ খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন, সীমান্তের ওপারে মোহনপুরা এলাকায় বড়সর বাঁধ তৈরি করে আত্রেয়ীর জল আটকে দেওয়া হয়েছে। কংক্রিটের তৈরি ওই বাঁধ ইন্টারনেটে গুগল ও স্যাটেলাইট সার্চেও নজরে এসেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের সমজিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র ১৪০০ মিটার দুরে দিনাজপুর-ফুলবাড়ি সড়কের উপর তৈরি মোহনপুর ব্রিজের ঠিক ওপাশে আত্রেয়ীর উৎস বরাবর বাঁধটি তৈরি করে জলস্রোত আটকে দেওয়া হয়েছে। যে কারণেই সীমান্তের এই দিকে আত্রেয়ী নদী তার নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে।

বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারপার্সন চয়নিকা লাহা জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে তাঁরা  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিকট সীমান্তের ওপারে আত্রেয়ী নদীতে বাঁধের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দুইজনেই ঢাকায় রয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁরা অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনাও করবেন। সেই আলোচনায় আত্রেয়ী নদীর বিষয়টিও উত্থাপিত হবে বলেই আশাবাদী তিনি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ