ঋষি দাস,বালুরঘাট:  নাটকের শহর বালুরঘাটে একসময় ফিকে হয়ে যাওয়া  সুনাম ফের ফিরে এসেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের সদর শহর বালুরঘাটের কথা উঠলেই বা শুনলেই সংস্কৃতি প্রেমী মানুষদের চোখের সামনে যেটা ভেসে ওঠে তা হলও নাটক। নাট্য অভিনয় পরিচালনা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়েই বালুরঘাট একটা সময় নাটকের শহর বলে পরিচিতি লাভ করেছিল সব জায়গায়। টিভি নামক বোকা বাক্সের দৌরাত্ম বাড়তেই ধীরে ধীরে এই শহরের নাট্য আন্দোলনের গতি মন্থর হয়ে যায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌছায় যে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে হাউসফুল শব্দটাই হারিয়ে গিয়েছিল। নাট্যসংস্থা গুলি অনেক কাঠখর পুড়িয়ে নাটক মঞ্চস্থ করলেও একটা সময় আশ্চর্যজনক ভাবে দর্শকদের উৎসাহে ভাটা পড়েছিল। 
শহরের 'ত্রিতির্থ' 'নাট্যমন্দির' 'বালুরঘাট নাট্যকর্মী' 'সমবেত নাট্যকর্মী'র মতো নাট্য সংস্থা গুলি নানান প্রতিবন্ধকতার মাঝেও, তাদের একাধিক নাটক মঞ্চস্থ করে এই আন্দোলনকে জিইয়ে রেখে পূর্বের সেই গতি অনেকটাই বাড়াতে সফল হয়েছে। 
সাম্প্রতিক কালের, মঞ্চস্থ হওয়া নাটক গুলির মধ্যে যেমন ত্রিতির্থ'র 'বানপ্রস্থ' 'অগ্নিশুদ্ধি' নাট্যমন্দিরের 'ওয়াশিং মেশিন' 'শাস্তি' বালুরঘাট নাট্যকর্মী'র 'ঘরকথা' 'শিক্ষামেব জয়তে' সমবেত নাট্যকর্মীর 'নানা রঙের দিন' 'সুন্দর' দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। পাশাপাশি এই নাটকগুলি সফল পরিবেশনার মধ্য দিয়ে টিভির সামনে থেকে দর্শকদের টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে বলেও নাটক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। কিন্তু, নাটকের হলঘর দর্শকে পরিপূর্ণ হওয়ার ঘটনা বিগত কয়েক দশক পর সম্প্রতি প্রথম চাক্ষুস করলেন বালুরঘাটের সংস্কৃতি প্রেমী মানুষজন। 
"বালুরঘাট নাট্য কর্মী" নামক নাটক সংস্থার একক উদ্যগে এই শহরে শুরু হয়েছে নাট্য উৎসব। রবিবার থেকে শুরু এই উৎসবের  প্রথম দিন থেকেই দর্শকাশন একশ শতাংশ ভরাট হয়েছে। নাটক নিয়ে নাট্য প্রেমিদের এই উৎসাহ নাট্য জগতে নজির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হলঘরে দর্শকদের টেনে আনতে পুরোপুরি সফল এই উৎসব। যে কারণে বাধ্য হয়েই রবিবার সকাল থেকেই নাট্যমন্দিরের গেটে হাউসফুল লেখা বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
উতসবকে সফল করতে তিন দিনের  শঙ্কর দাস, বালুরঘাট।