শংকর দাস, বালুরঘাট: বাইরে অসুস্থদের নিয়ে বসে রয়েছেন বাড়ির লোকেরা। দশ কুড়ি মিনিট ধরে নয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে। তাঁদের কেউ এসেছেন পঁচিশ কিলোমিটার দূর থেকে। কেউ বা আবার দীর্ঘ পনেরো কিলোমিটার পায়ে হেঁটে।

তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা করে শরীরের ঘাম ঝড়িয়ে অথবা গাড়ি ভাড়া করে এসেছেন সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে অসুস্থকে সুস্থ করাবেন বলে। কিন্তু কষ্ট করে বহু দূর থেকে এলেও হতাশ হয়েই তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। কেন না এনআরএস কাণ্ডের জেরে আইএমএ’র ডাকা ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরাও।

এদিন হাসপাতালের আউটডোরের সামনে ধর্নায় বসেন চিকিৎসকরা। তাঁদের সঙ্গে সামিল হয়েছিলেন নার্সরাও। আইএমএ’র এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনও। যার দরুন সোমবার হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যদিও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে জেলা হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিকই রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।

কুমাগঞ্জের মোহনা থেকে সন্তান সম্ভাবনা মেয়েকে নিয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন চাঁদমনী হেমরম। তিনি জানিয়েছেন, পয়সা খরচ করে গাড়িতে এসে দেখেন যে চিকিৎসকরা ধর্মঘট করেছেন। কেউই রোগী দেখবেন না।

চিকিৎসক তথা হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের দাবিতে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সোমবার সকাল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরেও ধর্মঘট পালিত হয়েছে সরকারি সমস্ত হাসপাতালে। চিকিৎসকদের এই ধর্মঘটের জানতেন না গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের অনেকেই। তাই এদিন সকাল হতেই জেলার কুমারগঞ্জ হিলি তপন সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ মানুষজন ও তাঁদের বাড়ির লোকেরা সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ নিতে হাজির হন জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে। কিন্তু এসে দেখেন হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ রেখে হাসপাতালের চিকিৎসকরা গলায় দাবি দাওয়ার প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ধর্না ও বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। ফলে এদিন চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে অসুস্থদের।

আইএমএ’র জেলা সম্পাদক ডাঃ অভিজিৎ ভৌমিক জানিয়েছেন, তাঁরা নির্ভয়ে রোগীদের সুষ্ঠ পরিষেবা দিতে চান। সেই লক্ষ্যেই তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে এদিন বহির্বিভাগে একদিনের প্রতীকী ধর্মঘট চলছে। তবে বালুরঘাট সহ জেলার সমস্ত হাসপাতালেই জরুরি বিভাগে যথারীতি পরিষেবা দিয়েছেন।