বালুরঘাট: শুধু রাস্তাঘাট ও সরকারি অন্যান্য প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া বা কাটমানির অভিযোগই নয়। এবার ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের সমস্যা নিয়েও দিদিকে বলো’র নম্বরে নালিশ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কবলে পড়ে জিরোপয়েন্ট লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বহুদিনের।

ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজে যাতায়াত ও অন্যান্য কাজে বেড়ার এপারে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধি নিষেধে প্রাণ ওষ্ঠাগত তাঁদের। সম্প্রতি উন্মুক্ত হিলি সীমান্ত ও তার আশপাশের এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার।

সীমানা চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের জিরোপয়েন্ট থেকে দুইশো গজ দূর দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এর ফলে কৃষকদের বহু জমি এমনকি হিলির বহু বাড়িঘর বেড়ার ওপারে পড়ে যাবে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে হিলি ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। এলাকার মানুষের দাবি তাঁদের চাষের জমি ও বাড়িঘর বাঁচিয়ে বেড়া দেওয়া হউক। এব্যাপারে দিদিকে বলো নম্বরে ফোন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলার অন্যান্য এলাকার মতো তৃণমূলের দিদিকে বলো’র প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলিতেও। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বুড়া হিলি এলাকায় এই কর্মসূচির সূচনা করেন ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি সুদীপ মোহান্ত। ব্লক তৃণমূল নেতা উদয় নেতৃত্বে এলাকার সাধারণ মানুষ তাতে অংশ নেন। সেখানে বসেই দিদিকে বলোর নির্দিষ্ট নাম্বারে অনেকে বেশ কয়েকজন রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও নিকাশির সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানান।

পাশাপাশি বহু মানুষ কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হারানোর আতংকের বিষয়টিও সেই নাম্বারে ফোন করে জানিয়েছেন। সকলেরই দাবি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সাথে কথা বলুন। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ২৫৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। যার মধ্যে হিলি সহ প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিনের কর্মসূচিতে হাজির হিলির জিরোপয়েন্ট লাগোয়া হাঁড়িপুকুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন মন্ডল জানিয়েছেন যে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। কারণ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর আগে বাকি অংশে বেড়া দেওয়ার ফলে তাঁদের পরিবারের বহু জমি সরকারকে নামমাত্র দামে বিক্রি করে দিতে হয়েছে। সামান্য যা কিছু জমি রয়েছে তাতে চাষ আবাদ করে কোনোরকমে সংসার চলে তাঁদের। এমতাবস্থায় যদি সেটুকুও চলে যায় তাহলে আত্মহত্যা ছাড়া কোন রাস্তা থাকবে না তাঁদের। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তাঁরা দিদিকে বলো নাম্বারে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এদিকে ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি সুদীপ মোহান্ত জানিয়েছেন যে দিদিকে বলো কর্মসূচিতে এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সারা পড়েছে। সকলেই সাবলীল ভাবে সেই নাম্বারে ফোন এলাকার উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের কথা জানাচ্ছেন। তবে এলাকার অনেকেই সীমান্তে কাটাতাঁরের বেড়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কথাও দিদিকে জানিয়েছেন।