স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাটঃ প্রার্থী তালিকা ঘোষনা হতেই রঙ তুলি হাতে নিয়ে নিজেই দেওয়াল লিখতে ভোটের ময়দানে নেমে পড়লেন অর্পিতা ঘোষ। মঙ্গলবার কলকাতায় কালীঘাটে রাজ্যের ৪২টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

বালুরঘাটের নিজের ফ্ল্যাটে বসে টিভিতে বালুরঘাট আসনে নিজের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে দেওয়াল লিখতে বেড়িয়ে পড়েন প্রার্থী স্বয়ং। কালীঘাটের সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হতেই দলীয় অনুগামীরা শুভেচ্ছা জানাতে কলেজ পাড়ায় তাঁর কাছে গিয়ে হাজির হন। তাঁদের সাথে নিয়ে সোজা আদর্শ স্কুলপাড়ায় দেওয়াল লিখন শুরু করেন তিনি৷

সেখান থেকে যান বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে৷ তাঁর আশীর্বাদ নেন অর্পিতা৷ শুধু প্রার্থী নিজেই নন বালুরঘাটের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী হিলিতেও তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন দেওয়াল লিখনে। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে নেমে পড়েন গঙ্গারামপুর ও তপন এলাকার কর্মীরাও।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে অর্পিতা ঘোষ তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে বাম প্রার্থী বিমলেন্দু সরকারকে এক লাখেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন৷ এবারের বালুরঘাট আসনে কে হবেন প্রার্থী তা নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছিল তুমুল গোষ্ঠী কোন্দল।

জেলা সভাপতি গোষ্ঠীর লোকেদের দাবী বিপ্লব মিত্রকেই এবারের প্রার্থী করতে হবে। আরেক দিকে অর্পিতা ঘোষের অনুগামীরা দাবীতে অবিচল ছিলেন যে তাঁকেই এবার প্রার্থী করতে হবে। নিজেদের মধ্যে এই কোন্দলের জেরে জোড়া ফুলের প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছিল তৃতীয় কারও নামও।

অবশেষে দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষকেই বালুরঘাট আসনে প্রার্থী করায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে আনন্দ উল্লাস। অর্পিতা ঘোষ জানিয়েছেন যে তিনি শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিলেন যে এবারে তাঁকেই ফের প্রার্থী করা হচ্ছে। গোষ্ঠী দ্বন্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন প্রার্থী হওয়া নিয়ে অন্য কারও আবেগ বা দাবী থাকতেই পারে। তবে খোদ মমতা বন্দোপাধ্যায় যখন কারও নাম ঘোষনা করেন তখন আর কারো কোন অসম্মতি বা ক্ষোভ থাকতে পারে না। এবারেও এক লাখেরও বেশি ভোটে জয়ী হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।

দলীয় প্রার্থী নিয়ে জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র জানিয়েছেন যে কে প্রার্থী হচ্ছে সেটা বড় কথা নয়। দলীয় প্রতীক দেখেই সবাই তৃণমূলকে ভোট দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে যে ভাবে বাংলাকে সম্মানজনক স্থানে বাংলাকে পৌছে দিয়েছেন। পাশাপাশি জেলায় তাঁর প্রচেষ্টায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দুই দুইটি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল রেল সবই দিয়েছেন। জেলা মানুষ যা কোনদিনই ভুলবেন না। এবারেও তৃণমূলকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবেন মানুষ বলে আশাবাদী তিনি।