শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরলেন জেলা পরিষদের দুই কর্মদক্ষ সহ তিন সদস্য। বালুরঘাটে জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা ধরিয়ে বরণ করে নেন সভাপতি ও বিধায়ক গৌতম দাস। ঘরে ফিরে আসাদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের মৎস্য কর্মদক্ষ চিন্তামণি বিহা, পূর্ত কর্মাদক্ষ মফিজুদ্দিন মিঞা ও সদস্য প্রতিভা মন্ডল।

বিপ্লব মিত্রর অনুগামী এই তিনজনের পাশাপাশি তপন ও কুমারগঞ্জ বিধানসভা এলাকার তিনশোরও বেশি কর্মী পুনরায় তৃনমূল শিবিরে ফিরলেন। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর জুন মাসে বিপ্লব মিত্রর হাত ধরে এঁরা সবাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মফিজুদ্দিন মিঞা বিজেপির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দীর্ঘদিন নির্দল হিসেবেই কাটিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মাস খানেক আগে বিপ্লব মিত্র ফিরে এলেও জেলাপরিষদের কয়েকজন তৃণমূলের বাইরেই ছিলেন। বিপ্লব মিত্রর নির্দেশে সোমবার চিন্তামণি বিহা ও প্রতিভা মন্ডলের সাথে মফিজুদ্দিন মিঞাও ফের তৃণমূলেই যোগ দিলেন।

এই উপলক্ষে বালুরঘাটে জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লব মিত্র ছাড়াও জেলা সভাপতি গৌতম দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। হাতে পতাকা তুলে দিয়ে তাঁদের তৃণমূলে বরণ করে নেওয়া হয়। একসময় বিজেপিতে চলে যাওয়া মফিজুদ্দিন মিঞা এদিন জানিয়েছেন যে একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণেই তাঁরা তৃণমূল ছেড়েছিলেন।

বিজেপিতে যোগ দিলেও ২০১৯ এর ডিসেম্বরে রীতিমতো লিখিত দিয়ে ঐ দলের সঙ্গত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে বিপ্লব মিত্র ফিরে আসায় তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করতেই তাঁরা এদিন এসেছেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম দাস জানিয়েছেন একটা সময় ভুল বোঝাবুঝির থেকেই দলত্যাগের মতো ঘটনা ঘটেছিলো। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে আবারো সংঘবদ্ধ হওয়াটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

লক্ষ্য একুশে বাংলা দখল। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। সোমবার একদিনের ঝটিকা সফরে উত্তরবঙ্গে এলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা নেতাদের সঙ্গে।

করোনায় কাবু থাকায় নাড্ডার সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে সশরীরে হাজির না থাকলেও হাসপাতালের বেডে বসেই ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একদিকে যখন এই বৈঠক চলছে তখন ফের একবার বাংলায় বড়সড় ভাঙন বঙ্গ বিজেপিতে। তাও আবার কিনা সেই উত্তরবঙ্গেই। বালুরঘাট বিজেপির অন্যতম বড় শক্তঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। এক সাংসদও পেয়েছে বিজেপি। আর সেখানেই বড়সড় ধস।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।