কোয়েটা: আগেই পাক সরকারকে হুমকি দিয়ে বালোচ বিদ্রোহীরা বলেছিল- হয় সরে যাও না হয় ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ তৈরির মতো রক্তাক্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে৷ সেই থেকে লাগাতার হামলায় পাক বালোচ প্রদেশ রক্তাক্ত হয়েছে৷ সম্প্রতি এই এলাকায় চিনের সাহায্যে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে নাশকতা তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে৷

এবার চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোর (CPEC) নিয়ে চিনকে হুঁশিয়ারি দিল বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)৷ তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চিনের আগ্রাসী মনোভাবের কারণেই বালোচিস্তান মৃত্যুপুরী হয়ে উঠবে৷ চিন যদি তার CPEC প্রজেক্টকে এগিয়ে নিয়ে যায় তাহলে সেটা ভালো হবে না৷

পাকিস্তানের অন্যতম বালোচ প্রদেশের সঙ্গে ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত৷ এই প্রদেশের আরব সাগর তীরে গোয়াদর বন্দর ঘিরে গড়ে ওঠা চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডরের বিরোধিতায় সরব বালোচ বিদ্রোহীরা৷ এই অর্থনৈতিক এলাকা চিনের কাশগড় থেকে পাকিস্তানের গোয়াদর পর্যন্ত বিস্তৃত৷ বিদ্রোহী BLA জানিয়েছে, তারা মাজিদ ব্রিগেডের একটি স্পেশাল ইউনিট তৈরি করেছে চিনা আধিকারিকদের টার্গেট করতে৷ উল্লেখ্য, গোয়াদরে পোর্ট সিটিতে হোটেল পার্ল কন্টিনেন্টালে হামলায় তারা দায়ী ছিল৷

বিএলএ নেতা জেনারেল আসলাম বালোচ একটি ভিডিও মেসেজের মাধ্যমে জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া চিন এখানে এসেছে, শত্রুদের সমর্থন করেছে, পাক সেনাকে সাহায্য করেছে, কিন্তু এবার বিএলএ-র সময় এসেছে৷ তিনি আরও জানান, বালোচ লিবারেশন আর্মি নিশ্চিত করে বলতে পারে বালোচে CPEC ভয়ঙ্করভাবে ব্যর্থ হবে৷ চিনের আগ্রাসী মনোভাবে বালোচিস্তান মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে৷ বালোচিস্তানে চিনা আধিকারিকদের ওপর হামলা করতে মাজিদ ব্রিগেড এি বিশেষ ইউনিট তৈরি করেছে৷ এদিকে চিনা প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বালোচিস্তান থেকে তাদের এখনও বেরিয়ে যাওয়ার সময় রয়েছে, যদি তারা তা না করে তাহলে যে পরিণাম হবে তা তারা কখনও ভুলতে পারবে না৷

পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই বালোচিস্তানে সরাসরি পাক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়৷ সেই থেকে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে বালোচ বিদ্রোহীরা৷ সেখানে চলছে পাক সেনার অভিযান৷