প্যারিস: আবারও শিরোনামে উঠে এলেন লিওনেল মেসি। ফুটবলের জাদুকরের মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি পালক। তিন বছরের খরা কাটিয়ে ‘ব্যালন ডি’অর’-এ আবারও ভূষিত হলেন এই আর্জেন্তাইন ফুটবল তারকা। এই নিয়ে ছ’বার ব্যালন ডি’অর পেলেন এলএমটেন। এর সঙ্গেই ব্যালন ডি’অর পাওয়ার সংখ্যায় ক্রিশ্চিয়ান রোনাল্ডোকে ছাপিয়ে গেলেন মেসি।

মঙ্গলবার প্যারিসে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ফুটবলের অনন্য সম্মান দেওয়া হয় ‘ফুটবলের রাজপুত্রকে’। এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন লিভারপুলের তারকা ফুটবলার ভার্জিল ভ্যান ডাইক-সহ অনেক ফুটবল তারকা।

ফিফার বর্ষসেরা হওয়ার পরে এ বারের ব্যালন ডি’অরেও অনেকেই এগিয়ে রেখেছিলেন মেসিকে। আর্জেন্তিনার কিংবদন্তি ফুটবলার প্রত্যাশা মতোই ছ’বার এই সম্মান জিতলেন। দ্বিতীয় ভার্জিল ফান ডাইক, তৃতীয় রোনাল্ডো। তবে এই অনুষ্ঠান হাজির ছিলেন না পর্তুগিজ ফুটবল তারকা।

মহিলাদের বিভাগে বর্ষসেরা হলেন বিশ্বকাপ জয়ী মার্কিন তারকা মেগান র‌্যাপিনো। অনুষ্ঠানে হাজির হতে না-পারলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এই মার্কিন ফুটবলার।

ব্যালন ডি’অর সম্মানে ভূষিত হওয়ার আগে রবিবার রাতে লা লিগায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে মেসি গোল করে বার্সেলোনাকে লিগ টেবলের শীর্ষ স্থানে পৌঁছে দেন। শনিবার রাতে আলাভেসকে হারিয়ে লা লিগা টেবলের এক নম্বরে উঠে এসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তাই, শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধারের জন্য আটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে জিততেই হত বার্সেলোনাকে। কিন্তু ম্যাচের শেষ অবধি গোল করতে পারেনি কোনও পক্ষই। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন যে অধরাই থাকবে, ধরে নিয়েছিলেন বার্সেলোনা সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট চারেক আগে নাটকীয়ভাবে ছবিটা বদলে দেন মেসি। সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে পাস ধরে বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের সামনে পৌঁছে যান তিনি। তার পরে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি।

প্রত্যাশিতভাবেই এই অনুষ্ঠানে ব্যালন ডি’অর-এ মেসির নাম ঘোষণা করা হয়। ২০০৯,২০১০,২০১১,২০১২ এবং ২০১৫ সালের পর ষষ্ঠ বারের মত ফুটবলের এই অনন্য সম্মান পেলেন মেসি। এই পুরস্কার পাওয়ার পর মেসি বলেন, ‘হঠাৎ ভেবে দেখালাম আমি ভীষণ ভাগ্যবান। যদি একদিন আমাকে অবসর নিতে হয়, হয়ত তা খুব কঠিন হবে। কিন্তু এখনও আমার বহু বছর বাকি আছে। সময় খুব দ্রুত এগিয়ে যায়। তাই আমি ফুটবলকে উপভোগ করতে চাই।’

এরপরেই কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন এই আর্জেন্তানীয় ফুটবল তারকা। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে এই প্যারিস শহরেই আমি আমার প্রথম ব্যালন ডি’অর পাই। তখন ২২ বছর বয়সে এটা আমার ভাবনা চিন্তার বাইরে ছিল। আর আজ আমি আমার ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর পেলাম। আমার স্ত্রী সব সময় বলে স্বপ্ন দেখা থামিও না কিন্তু নিজেকে শুধরে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাও।’

মেসি ব্যালন ডি’অর পাওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছাবার্তা উপচে পড়েছে। মেসির এককালের সতীর্থ লুইজ গার্সিয়া মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘তুমি তো ইতিহাস গড়ছ।’ প্রাক্তন ইংরেজ ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামও ইনস্টাগ্রামে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন মেসিকে।

তবে, অনুষ্ঠানে ক্রিশ্চিয়ান রোনাল্ডো অনুপস্থিত থাকার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মেসি ভক্তরা। মেসি-রোনাল্ডোকে নিয়ে শুরু হয়েছে একের পর এক ‘মিম’।