মাদ্রিদ: বিশ্বজুড়ে চলছে কালান্তক করোনার কালবেলা। দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে সংক্রমণ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে উপসর্গও। এদিকে দীর্ঘ আড়াই মাস গৃহবন্দি থাকার পর পৃথিবীর সব দেশই যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে,তখন নতুন করে আশঙ্কার কথা শোনালেন একদল স্পানিশ বিজ্ঞানী।

এতদিন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হলে রোগীর স্বাদ,গন্ধ,বর্ণ এবং কনজাংটিভাইটিসের মতো বিভিন্ন লক্ষণের কথা ইতিমধ্যেই সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। এবার সেই তালিকায় নতুন করে সংযোজিত হল টাকপড়া মানুষের সবথেকে বেশী করোনা সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কার খবর। আর এই ধরনের মারাত্মক অসুখের খবর সামনে আসতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চিকিৎসকদের।

সম্প্রতি, স্পেনের একদল চিকিৎসক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি জার্নালে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। স্পেন,ইংল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, সকল পুরুষের দেহেই ‘অ্যান্ড্রজেন’ নামে একধরনের হরমোন থাকে। যা পুরুষ মানুষের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই অ্যান্ড্রজেন হরমোন তাদের কোষগুলিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

অত্যাধিক পরিমাণে এই হরমোনের নিঃসরণ পুরুষদের অকালে চুল পড়ার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যারফলে বেশিরভাগ পুরুষ মানুষই অল্প বয়সে টাক পড়ে যাওয়ার মত মারাত্মক অসুখের সম্মুখীন হন। আর এই অবস্থায় নতুন করে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন গবেষক মণ্ডলীরা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, অ্যান্ড্রজেন হরমোনের কারনে মাথার চুল অকালে ঝরে গিয়ে টাক পড়ে যায়। এরফলে কোষগুলি আলগা হয়ে যাওয়ায় সরাসরি মানব মস্তিস্কে করোনা সংক্রমিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আর সেই আশঙ্কাকে একদমই উড়িয়ে দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা। কারন, গোটা বিশ্বেই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের নিরিখে এগিয়ে রয়েছেন পুরুষেরা।

শুধু তাই নয়, সারা পৃথিবীতেই অকালে টাক পড়ে যাওয়ার মতোন অসুখের সম্মুখীন হন পুরুষেরাই বেশি। ফলে তাদেঁর দ্রুত করোনা সংক্রামিত এবং মৃত্যুর মতো ঘটনার ঝুঁকি একটু বেশিই রয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওই জার্নালে প্রকাশিত তথ্যে আরও জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট চিকিৎসক গার্বিন সিং এবং ফ্রাঙ্ক গার্বিনও টাকপড়া রোগে আক্রান্ত। করোনা সংক্রামিত হওয়ার পর তাঁরা দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন।

আর এই বিষয়ে স্পেনের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লো ওয়ার্মবিয়ার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, টাকপড়া মানুষদের করোনাভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার লক্ষন হিসেবে এই ধরনের সমস্যা গুলিকে প্রথম থেকেই আমল দেওয়া উচিত। নচেৎ মৃতের সংখ্যা যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে তাতে যতদিন না পর‍্যন্ত কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন অবধি করোনার প্রকোপ বাড়বে বৈকি কমবে না।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV