নয়াদিল্লি: রাতের অন্ধকারে চুপিসারে আকাশপথে প্রতিবেশী দেশে হানা৷ এক নিমেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল জইশ জঙ্গিদের ঘাঁটি৷ ঠিক এক বছর আগে এরকমই এক ২৬ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটেছিল।

পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার বদলা নিতে ২৬ ফেব্রুয়ারির রাতে পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের বায়ুসেনা প্রত্যাঘাত করে৷ যা বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক নামে পরে খ্যাতি পায়৷ সেই বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের সঙ্গে রামায়ণের এক অত্যাশ্চর্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

কী সেই মিল? পুলওয়ামার ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর তলে তলে ভারত প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে৷ প্রস্তুতি পর্বটি চূড়ান্ত গোপন রাখা হয়৷ কাকপক্ষীও টের না পায় এতটাই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়৷

প্রতিটি পদক্ষেপ করা হয়েছিল অত্যন্ত মেপে ও নিখুঁত ভাবে৷ বালাকোট অভিযানের সঙ্গে যাদের যুক্ত করা হয়েছিল তারা বিভিন্ন কোড নাম ব্যবহার করতেন৷ এই অভিযান সংক্রান্ত একটি তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে৷ ভারতীয় বায়ুসেনা এই অপারেশনের একটি কোড নাম দিয়েছিল৷ সেটি হল ‘অপারেশন বাঁদর’৷

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, সেনা বা পুলিশ যখন অপারেশনের নানা ছক কষে, তখন সবসময় কোড নাম ব্যবহার করা হয়৷ কারণ একটাই, অপারেশনের সামন্য থেকে সামান্যতম তথ্যও ফাঁস না হয়ে যায়৷ বালাকোটের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছিল৷ ওই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘অপারেশন বাঁদর’৷

অপারেশনের নামটি শুনে অনেকে চমকে উঠতে পারেন৷ কিন্তু বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের কোডনামের ক্ষেত্রেও বায়ুসেনা ক্ষুরাধার বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে৷ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওই সূত্রের ব্যাখ্যা, পুরাণে বর্ণিত, শত্রুকে বেকায়দায় ফেলতে বাঁদরের জুড়ি মেলা ভার৷ তাদের বাঁদরামি প্রবল শক্তিশালী শক্রুকেও নাজেহাল করে ছাড়ে৷ হাতের কাছে তো রামায়ণের উদাহরণই আছে৷ সীতার খোঁজ নিতে রাম পবন পুত্রকে লঙ্কায় পাঠিয়েছিলেন৷

রাবণের সেনার হাতে ধরা পরার পর হনুমান কী লঙ্কাকাণ্ডই না বাঁধিয়েছিলেন৷ রাবণের লঙ্কাপুরী আগুনে ছাই করে দেন৷ সবারই তা স্মরণ আছে৷ ২৬ ফেব্রুয়ারির রাতে ১২টি মিরাজ যুদ্ধবিমান সেই হনুমানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়৷ ছারখার করে দিয়ে আসে জইশ জঙ্গিদের ঘাঁটিগুলি৷ ফলে অপারেশন বাঁদরের থেকে ভালো নাম এক্ষেত্রে আর কিছু হতে পারে না৷