ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ১২ দিন পর পাকিস্তানের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। জইশের ঘাঁটিতে গিয়ে বোমা ফেলে আসে ভারতের মিরাজ যুদ্ধবিমান। কিন্তু সেখানে কত জঙ্গির মৃত্যু হয়? সেই প্রশ্নই বারবার ঘুরে ফিরে আসছে ঘটনার পর থেকে। সরকার কিংবা বায়ুসেনার তরফে কোনও সংখ্যা উল্লেখ করা না হলেও বারবার বলা হয়েছে যে, টার্গেটে আঘাত করতে সফল হয়েছে ভারত।

সোমবারই এই প্রসঙ্গে বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়া উল্লেখ করেন যে, টার্গেটে আঘাত করা হলেও মৃতের সংখ্যা কত, তা সরকারই বলবে। এরপরই প্রকাশ্যে এসেছে NTRO-র রিপোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে, এয়ার স্ট্রাইকের ঠিক আগে বালাকোটের ওই ঘাঁটিতে অন্তত ৩০০টি অ্যাকটিভ মোবাইল কানেকশন।

NTRO বা National Technical Research Organisation, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিভাগের অধীন একটি এজেন্সি যারা প্রযুক্তির সাহায্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে তথ্য সরবরাহ করে।

সূত্রের খবর বায়ুসেনা ওই অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়ার পর NTRO ওই এলাকায় নজরদারি চালাতে শুরু করে। জানা গিয়েছে নজরদারি করে সংস্থার হাতে যে তথ্য উঠে আসে তাতে দেখা যায়, ওই ঘাঁটিতে অন্তত ৩০০টি মোবাইল কানেকশন ছিল। এয়ার স্ট্রাইকের ঠিক আগের দিনই দেখা যায় সবকটি মোবাইল ওই অংশে অ্যাকটিভ আছে। এরপরই ১২টি মিরাজ বিমান আভিযান চালায় বালাকোটে।

সোমবার সকালেই সাংবাদিক বৈঠক করেন বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের টার্গেটে আঘাত করেছি। তবে কতজন মারা গিয়েছে তা আমরা বলব না, সরকার বলবে।’

একদিকে পাকিস্তান দাবি করছে, বালাকোটে নাকি কোনও মৃত্যু হয়নি। ভারতের অভিযানে তেমন কোনও ক্ষতিই হয়নি। বালাকোটের জঙ্গলে গিয়ে বায়ুসেনা বোমা ফেলেছে বলে দাবি করেছে পাক সরকার। এই প্রশ্নের উত্তরে বিএস ধানোয়া বলেন, ‘আমরা যদি জঙ্গলেই বোমা ফেলে থাকি, তাহলে পাকিস্তান কেন পাল্টা আঘাত করতে এল।’ তাঁর দাবি টার্গেটে আঘাত করা হয়েছে বলেই জবাব দিতে এসেছিল পাকিস্তান। তবে বায়ুসেনার অভিযানের কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা তাঁর বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান। তবে কতগুলো টার্গেটে আঘাত করা হয়েছে, তা গুনতে পারে বায়ুসেনা। আর সেইসব টার্গেটে কত জঙ্গি উপস্থিত ছিল, তা থেকে মৃতের সংখ্যা বেরিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।