তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ একসময় দারিদ্রতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই সময় চাইলেও কিছুই করে উঠতে পারেননি তিনি। অবশেষে দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ এক শিক্ষিকার। হাজারো অতিথি অভ্যাগতদের মাঝে নিজের বিয়েতে পাত পেড়ে খাওয়ালেন প্রাণ প্রিয় শতাধিক ছাত্র ছাত্রীকে। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির ভক্তাবাঁধ গ্রামের মৌসুমি মাজির এই কর্মকাণ্ড এখন এলাকায় অন্যতম চর্চার বিষয়। এলাকার প্রত্যেকেই তাঁর এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। এই ধরণের তাদের এলাকায় এই প্রথম বলেই অনেকে জানিয়েছেন।

বর্তমানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মৌসুমি মাজির বাবা উজ্জ্বল মাজি গৃহশিক্ষকতা করে মেয়েকে বড় করেছেন। একসময় আর্থিক অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তখন চাইলেও তিনি কিছু করে উঠতে পারেননি। অবশেষে চাকরী পাওয়ার পর তা করতে পেরে ভীষণ খুশি তিনি। এই কাজ তার কাছে স্বপ্ন পূরণের সামিল। নিজের বিয়ের দিন এলাকার ছাত্র ছাত্রীদের যথারীতি নিমন্ত্রণ করে দুপুরে খাওয়ালেন। মেনুতেই ছিল বৈচিত্রের ছোঁয়া।

শিক্ষিকা মৌসুমী মাজির এক সময়ের শিক্ষক ও গ্রামবাসী সঞ্জীব বটব্যাল বলেন, ছাত্রী হিসেবে বরাবরই ভালো ছিল সে। বাবার সামান্য আয়ের উপর তাদের সংসার চলতো। কিন্তু বরাবর ব্যতিক্রমী ভাবনার মানুষ মৌসুমী। শুধু নিজের বিয়েতে ছাত্র ছাত্রীদের খাওয়ানোই নয়, চাকরী পাওয়ার পর এ বছর পুজোর আগে বাঁকুড়া স্টেশনে গিয়ে অসহায় দুঃস্থ মানুষদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিয়েছে সে। সবসময় অন্যভাবনা আর অন্যপথের পথিক তার এই প্রাক্তন ছাত্রীটি বলেই তিনি জানিয়েছেন।

মৌসুমি মাজির এই কাজকে সমর্থণ জানিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও। আগামী দিনে এই সমস্ত সামাজিক কাজে তাদের তরফে পূর্ণ সমর্থণ আছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বামী পেশায় শিক্ষক শুভ্রাংশু মিত্র। বর্তমানে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির বাসিন্দা হলেও তাঁদের আদি বাড়ি পুরুলিয়ার বালিতোড়া গ্রামে।

শিক্ষিকা মৌসুমী মাজি এবিষয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার ইচ্ছে তো ছিলই, তার পাশাপাশি মায়েরও খুব শখ ছিল আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের খাওয়ানোর ব্যাপারে। একরত্তি শিশুদের রাতে আসার অসুবিধের কথা ভেবে দুপুরেই তাদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। মৌসুমী নিজেও জানিয়েছেন, একদম ছোটো থেকেই নানান ধরণের সামাজিক কাজকর্ম করার ইচ্ছে থাকলেও শুধুমাত্র অর্থের অভাবে তা হয়ে ওঠেনি। এখন একদিকে নিজের আর্থিক স্বচ্ছলতা, অন্যদিকে শ্বশুর বাড়ির পূর্ণ সমর্থণ। এই দুইকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে বাকি সব অপূর্ণ সাধ তিনি পূরণ করবেন বলে জানান।

প্রিয় দিদিমনি বিয়েতে নিমন্ত্রিত ছাত্র ছাত্রীরাও ভীষণ খুশি। সায়ন পাত্র, আকাশ মাজি, অর্ণব মাজিদের কথায়, খুব ভালো লাগলো। দিদিমনি তার বিয়েতে আমাদের সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। তারা সবাই এসেছে ও প্রচুর আনন্দ করেছে বলে তারা প্রত্যেকেই জানিয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ