তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ ধর্মঘটে অনড় কর্মচারীরা। এই অবস্থায় নিজের হাতে বন্ধ দরজা খুলে বাম-কংগ্রেসের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের দিন বাঁকুড়া মূখ্য ডাকঘরের কাজকর্ম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেন বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার। বুধবার সকাল থেকেই ধর্মঘটের কারণে শহরের মাচানতলায় মুখ্য ডাকঘরে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হয়। বাম-কংগ্রেস সমর্থিত কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা মুখ্য ডাকঘরের সামনে অবস্থান আন্দোলনে বসেন। এদিন দুপুর নাগাদ বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার সেখানে গিয়ে ডাকঘরের কর্মচারীদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলেন।

উপস্থিত হন সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোষ্ট অফিস রামেশ্বর দয়ালও। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার নিজেই ডাকঘরের বন্ধ দরজা খোলার কাজে হাতে লাগান। একই সঙ্গে এদিন কাজে যোগ না দেওয়া কর্মচারীদের অনুপস্থিত দেখানো ও বেতন কাটার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, বনধ রুখতে ইতিমধ্যে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজে যোগ না দিলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের একদিনের বেতন কাটার নির্দেশ জারি করেছে অর্থদফতর। একই সঙ্গে চাকরী জীবন থেকে একদিন কম হবে বলেও জানান নবান্ন। এবার সেই সুরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাটার হুঁশিয়ারি বিজেপি সাংসদের।

জেলা মুখ্য ডাকঘরে এখানে কাজে আসা গ্রাহক রুমা মণ্ডল বলেন, নতুন পাশবই নেওয়ার জন্য এসেছিলাম। এখানে এসে দরজা বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে। আবারও সময় করে অন্য দিন আসতে হবে বলে তিনি জানান।

সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোষ্ট অফিস রামেশ্বর দয়াল বলেন, দু’টি ইউনিয়ন আগেই নোটিশ দিয়ে রেখেছিল যাতে কাজ না হয়। সেই কারণে এদিন কেউ আসেনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দরজা কে খুলবে। কাজ করার জন্যই তো কেউ আসেনি। কোন কর্মী না আসার কারণে পরিষেবা ব্যহত হয়েছে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, সবাই এলে তবেই সব কটি দরজা খোলা হবে। নাহলে সব দরজা খোলার কোন প্রয়োজন নেই। তবে জেলার মুখ্যডাকঘর বন্ধ থাকলেও ঝাঁটিপাহাড়ি ও বিষ্ণুপুর স্টেশন রোডের ডাকঘরে কাজকর্ম স্বাভাবিক আছে বলেই বলেই তিনি জানান।

সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বাম-কংগ্রেসকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এদের সংগঠনের নেতারা কর্মচারীদের ভুল বুঝিয়েছেন। এমনকি কাওকে কাওকে কাজে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যেসমস্ত কর্মচারী এদিন কাজে যোগ দিলেননা তাদের হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত করা হলো ও বেতন কাটা হবে বলে তিনি জানান। যদিও এই বিষয়ে ধর্মঘটী ইউনিয়ন গুলির তরফে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।