তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ চলতি বছরেই বাঁকুড়ার তিনটি পুরসভায় ভোট। আর এই তিন তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার কাজে খুশি নন দলীয় নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। বুধবার বাঁকুড়া রবীন্দ্র ভবনে জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পুরসভার পুরপ্রধানদের কাজে খুশী যে নন তা পরিস্কার করে দেন। আসন্ন পুরসভা ভোটের আগে তিন পুরপ্রধান যে মুখ্যমন্ত্রীর ‘গুড বুকে’ নেই এদিন তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট।

সম্ভবতঃ পুরসভার ভোটে আগে এই জেলায় শেষ প্রশাসনিক বৈঠকে বাঁকুড়ার পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনি কি কাজকর্ম করেন না? আপনার নামে মানুষের এতো অভিযোগ কেন?’ মানুষের জন্য কাজ করা আর মানুষের ভালো ব্যবহার করা এই দুটো কাজের একটাও আপনি করেন? মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশ্নের উত্তরে কার্যত থতমত খেয়ে যান ‘ডাঁকসাইটে’ পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত। ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়াই’ জানিয়ে ঠেকা দিতে চাইলেও মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে পারেননি তিনি। দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরপ্রধানকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ক্ষমা’ চেয়ে আসার নিদান দেন। একই সঙ্গে এদিন সভায় ডাক না পাওয়া উপপুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়ালকে কার্যত সার্টিফিকেট দিয়ে দু’জনকে এক সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।

বিষ্ণুপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ‘দলের সিনিয়র লিডার, প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী’ সম্বোধন করে তার কাজেও খুশী নন বলে জানান। অবিলম্বে হকারদের পূনর্বাসন ও ‘ডাম্পিং গ্রাউণ্ডে’র কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বাকি দুই পৌরসভার মতো মুখ্যমন্ত্রীর ‘গুড বুকে’ নেই সোনামুখী পৌরসভাও। পৌরপ্রধান সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়কে ঠিক মতো কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে জল সমস্যা সমাধানে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বাঁকুড়ায় শাসক দলের বিপুল পরাজয়ের পর এই প্রথম জেলা সফরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটের নিরিখে তিনটি পৌরসভায় এগিয়ে বিজেপি। এই অবস্থায় নিজেদের হারানো গড় পুনঃরুদ্ধারই শাসক দলের মূল লক্ষ্য। তাই পৌরসভাকে পাখির চোখ করে লড়তে চাইছে তৃণমূল। এই অবস্থায় তিন পৌরপ্রধানে কাজে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের মন পেতে চাইছেন বলে জেলা রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা প্রশাসনের সামগ্রিক কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে পূর্ত ও ভূমি দফতরের কাজে খুব খুশি নন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এদিন তিনি খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র, রানীবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি, তালডাংরার বিধায়ক সমীর চক্রবর্ত্তী, রাইপুরের বীরেন্দ্র টুডু, ইন্দাসের বিধায়ক গুরুপদ মেটেদের এলাকায় কাজের ব্যাপারে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে কথা বলেন ও সমস্যার কথা শোনেন চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সভার শুরুতে জেলার বেশ কিছু প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধনও করেন। বাঁকুড়ার সভা শেষ করে সরাসরি দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।