তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ ‘কতটা মায়ের দুধ খেয়েছো দিলীপ ঘোষ? যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উপর বুলেট চালাবে!’ মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়া শহরে দলের তরফে এনআরসি, সিএবি বিরোধী মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে হুমকি দিলেন।

তিনি দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে আরও বলেন, খড়গপুর থেকে রাঁচি মাত্র চার-পাঁচ ঘন্টার পথ। ওখানে বিখ্যাত এক হাসপাতাল আছে বিশেষ লোকেদের জন্য। আর ওই বিখ্যাত হাসপাতালটি দিলীপ ঘোষের জন্য ‘আদর্শ জায়গা’ বলেও এদিন তিনি দাবী করেন।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাংসদ সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের নাম না করে তিনি বলেন, যাদের কোন দাম ছিলনা তারা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে সাংসদ হয়েছিলেন, সেই ‘গদ্দার’দের আগামী দিনে ‘সুন্দরভাবে উত্তর’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সময়ের ‘লাল দূর্গ’ হিসেবে পরিচিত খাতড়ায় সভা করতে এসে এদিন সিপিএমের প্রাক্তন বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক ও বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্রকেও এক হাত নেন কল্যাণবাবু।

অমিয় পাত্রের নাম করে তিনি বলেন, ১৯৯৮-৯৯ সালে আমরা ফাঁকা মঞ্চে সভা করে গিয়েছি। ওনার ‘বিশাল হুঙ্কার’ ছিল। এখন সেই অমিয় পাত্র ‘ঘরের ভীতর ঢুকে বিড়াল হয়ে বসে আছে’। আগামী দিনে বিজেপিকেও ওই জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি দাবী করেন।

এদিন খাতড়া শহরে ‘নো এনআরসি, নো সিএবি’ দাবী তুলে তৃণমূলের মিছিলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল, বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা, বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি, দলের নেতা জয়ন্ত মিত্র, দিলীপ আগরওয়াল প্রমুখ।