স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: টানা সাত দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা। স্বস্তির নিঃশ্বাস রোগী ও তাদের আত্মীয়দের মধ্যে। এদিন সকাল থেকে ফের আউটডোরে রোগী ও তাদের আত্মীয়দের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে।

এনআরএস কাণ্ডের জেরে গোটা রাজ্যের সঙ্গে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। যার জেরে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল এই হাসপাতালে। মাঝে সিনিয়র চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে আউটডোর পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরে ২২ জন সিনিয়র চিকিৎসকের গণইস্তফায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

সোমবার নবান্নে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক শেষে রাজ্যের সঙ্গে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজেও জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি উঠে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের আউটডোর সহ অন্যান্য সমস্ত ধরণের পরিষেবা চালু হয়েছে।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থ প্রতিম প্রধান বলেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে। তবে অচলাবস্থা কাটার খবর সর্বত্র এখনও পৌঁছায়নি৷ তাই এদিন আউটডোরে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরাও সোমবার রাত থেকেই কাজে যোগ দিয়েছেন। গণইস্তফা দেওয়া ২২ জন চিকিৎসকের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওনারাও কাজ করছেন। নিরাপত্তা চেয়ে ওনারা টোকেন ইস্তফা দিয়েছিলেন বলে তিনি জানান।

বহুচর্চিত জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শেষে হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, অন্য জায়গার কথা বলতে পারবো না৷ এখানে পুলিশ প্রশাসন প্রথম দিন থেকে আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালীনও জুনিয়র চিকিৎসকরা সিনিয়র চিকিৎসকদের সাহায্য করেছেন৷ ফলে অন্য সময়ের তুলনায় এই কদিনে চিকিৎসাধীন রোগী মৃত্যুর হার অনেকটাই কম বলে অধ্যক্ষ পার্থ প্রতিম প্রধান দাবি করেন।