তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ মণ্ডল সভাপতির ‘পদত্যাগে’র দাবীতে রাতভর অনশন কর্মসূচী অবশেষে প্রত্যাহার করলেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। সোমবার বাঁকুড়ার বিজেপির সাংসদ কার্যালয়ের সামনে অনশনরত নেতা কর্মীদের চা খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান দলের জেলা সহ সভাপতি নীলাদ্রি শেখর দানা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিজেপির ছাতনা মণ্ডল-৩ সভাপতি হিসেবে ফের নির্বাচিত হয়েছিলেন সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডু। কিন্তু তার এই নিয়োগ মেনে নিতে পারেননি ওই এলাকার বেশ কিছু দলীয় কর্মী সমর্থক। সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডু শারিরীক ও মানসিকভাবে দূর্বল’ অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবীতে রবিবার রাত থেকে বেশ কয়েক জন বিজেপি নেতা কর্মী ‘আমরণ অনশনে’ বসেছিলেন। এদিন সকালে দলের জেলা সহ সভাপতির উপস্থিতিতে সেই অনশন তারা প্রত্যাহার ঘোষণা করেন।

অনশনকারীদের পক্ষে বিল্টু দে বলেন, জেলা নেতৃত্ব আমাদের দাবীকে সমর্থণ জানিয়েছেন। ওনারাও স্বীকার করেছেন বর্তমান মণ্ডল সভাপতি সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডু শারিরীক ও মানসিকভাবে দূর্বল। তাই তাকে ওই পদ থেকে সরানো হবে। এই আশ্বাস পেয়েই আমরা অনশন প্রত্যাহার করলাম।

বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সহ সভাপতি নীলাদ্রি শেখর দানা অনশনকারীদের দাবীকে সমর্থণ জানিয়ে বলেন, সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডু ঐ এলাকায় দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত। মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন করেন দলের জেলা নির্বাচন আধিকারিক। ২৬ টি মণ্ডলের মধ্যে এক’দুজায়গায় কিছু সমস্যা তৈরী হয়েছে।

এবিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হবে। ছাতনা মণ্ডল-৩ সভাপতিকে জেলার কোন পদে নিয়ে এসে ওই জায়গায় কোন যুবনেতাকে ঐ মণ্ডল সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান। তৃণমূল বিজেপি নেতা কর্মীদের এই অনশন কর্মসূচীকে কটাক্ষ করার সুযোগ ছাড়তে রাজী নয়। দলের জেলা যুব নেতা শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভার তিনটি উপনির্বাচনেই মানুষ জবাব দিয়ে দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদীর ছবিকে সামনে রেখে ‘লুটে পুটে খাওয়া’ গোষ্ঠী রয়েছে। নরেন্দ্র মোদই সারা দেশ লুটে পুটে খাচ্ছে, এরা এখানে লুটে পুটে খাওয়ার চেষ্টায় আছে বলে তিনি দাবী করেন।