তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ জেলার তিন পুরসভার ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রার্থী পদের সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনী রণকৌশল তৈরী করতে নেমে পড়লো বাঁকুড়া জেলা বিজেপি। শনিবার দলের যুব, মহিলা মোর্চার নেতৃত্বকে সঙ্গে বিশেষ নির্বাচনী বৈঠক সারলেন জেলা নেতৃত্ব। গত লোকসভা ভোটে জেলার দু’টি কেন্দ্রই শাসক দলের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকেই উজ্জীবিত জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। ২০২১ এর বিধানসভা ভোটের আগে এবার জেলার তিন পুরসভা দখলে পাখির চোখ করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চলেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের পুরভোটে যেখানে ২৪ টি ওয়ার্ডের বাঁকুড়া পুরসভায় তৃণমূল-১৭, বামফ্রন্ট-৩, কংগ্রেস-১, নির্দল-১ ও বিজেপি-২ টি আসনে জয়লাভ করে, সেখানে এবারের লোকসভা ভোটের নিরিখে বিজেপি একাই ২৩ টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় যেভাবেই হোক বাঁকুড়া সহ জেলার আরো দু’টি পুসভা দখলই বিজেপির অন্যতম মূল লক্ষ্য। যুব ও মহিলাদের সমর্থন পেতে এবার বেশী সংখ্যায় ওই দুই গোষ্ঠীকে বিজেপি পুরভোটে প্রার্থী করবে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, রাজ্যে একজন মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্বেও মহিলারা এখানে ‘নিরাপদ নন’ বলে দাবী করেছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী মণিকা দত্ত। তিনি বলেন, এখন ঘর সংসার সামলেও বেশী বেশী সংখ্যায় মহিলারা তাদের দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দিচ্ছেন। বিগত সিপিএম বা বর্তমান তৃণমূলের পৌরবোর্ড কেউ ‘মানুষের কথা না ভেবে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি’ করে গেছে দাবী করে তিনি আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের কাছে সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে।

বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র আত্মবিশ্বাসের সূরে বলেন, যে কোন মুহূর্তে পুরভোট হোক, আমরা তৈরী। বিজেপিই পুরসভা দখল করবে। একই সঙ্গে বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বোমা ছোঁড়ে তাকে আমরা রসগোল্লা খাওয়াবো না’। যেকোন ধরণের পরিস্থিতিই আসুক না কেন বিজেপি তার মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি অরুপ চক্রবর্ত্তী জেলায় বিজেপির দুই সাংসদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রায় এক বছর এঁরা সাংসদ হয়েছেন, কি কাজ করেছেন? শুধু ‘ভেকি মারলে’ হবেনা, কাজ করতে করতে হবে। একই সঙ্গে বিজেপি বাঁকুড়া পৌরসভার ২৪ টি ওয়ার্ডের জন্য ২৪ জন প্রার্থী খুঁজে পাবেনা দাবী করে তিনি বলেন, এই পৌরসভায় তারাই ফের ক্ষমতায় আসবেন। দলের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই ও সার্বিক উন্নয়নের জেরেই জেলার তিনটি পৌরসভাই তৃণমূলের দখলে থাকবে বলে তিনি জানান।