নুর-সুলতান: বৃহস্পতিবার সেমির টিকিট নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গেই ছাড়পত্র মিলেছিল টোকিও অলিম্পিকের। মনে করা হচ্ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এবার বুঝি সোনার খরা কাটবে বজরং’য়ের। কিন্তু বিশ্ব মিটের সেমিফাইনালে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হলেন এশিয়াড ও কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী কুস্তিগির বজরং পুনিয়া। যার ফলে পোডিয়াম টপে ফিনিশ করা হল না ২০১৮ রুপোজয়ীর।

৬৫ কেজি ফ্রি-স্টাইল বিভাগে শেষ চারের লড়াইয়ে টাইব্রেকারে কাজাখ প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হার স্বীকার করতে হল বিশ্বের পয়লা নম্বর কুস্তিগিরকে। তবে ঘরের মাটিতে বজরং’য়ের কাজাখ প্রতিদ্বন্দী দৌলত নিয়াজবেকোভ’কে সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল বিচারকদের বিরুদ্ধে। হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ফাউলের পরেও একাধিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ঘরের প্রতিযোগীর পক্ষে গিয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। মুখে আঘাত করা, কসটিউম টেনে ধরা কিংবা ট্যাকটিকসের জন্য অযথা বিলম্ব করলেও কাজাখ প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে বিচারকেরা নিশ্চুপ থেকেছেন বলে অভিযোগ।

২-২ অবস্থায় একটি মুভ থেকে এদিন ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নেন বজরং’য়ের প্রতিদ্বন্দ্বী। অথচ দেখা যায় মুভটি অপারেট হয়েছে বজরং’য়ের তরফ থেকেই। প্রাথমিকভাবে কাজাখ কুস্তিগিরকে ৪ পয়েন্ট দেন বিচারক। স্বাভাবিকভাবেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেন বজরং। কিন্তু ভারতীয় কুস্তিগিরের চ্যালেঞ্জ নাকচ করে দৌলতকে উলটে ৫ পয়েন্ট প্রদান করা হয়। বজরং’য়ের কোচ বেনিতিদিসের মতে ওই মুভটির জন্য অন্তত ২ পয়েন্ট পাওয়া উচিৎ ছিল ভারতীয় কুস্তিগিরের। যদিও শেষমেষ দুরন্ত ফাইট ব্যাক করে ৯-৯ ব্যবধানে বাউট শেষ করেন বজরং। কিন্তু একটি মুভ থেকে সর্বাধিক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার কারণে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় কাজাখ কুস্তিগিরকে।

৫৭ কেজি বিভাগে শেষ চারের লড়াই শেষ হল আরেক ভারতীয় কুস্তিগির রবি দাহিয়া। রবি দাহিয়া শেষ চারের লড়াইয়ে ৪-৬ পয়েন্টের ব্যবধানে হার মানেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাউর উগুয়েভের কাছে। তবে সেমিতে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে অলিম্পিক টিকিট নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল দাহিয়ারও। খেতবি লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও শুক্রবার দুই ভারতীয় তারকাই ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়াই চালাবেন।

শেষ চারে বজরং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন যোগেশ্বর দত্ত। লন্ডন অলিম্পিকের ব্রোঞ্জজয়ী লেখেন, ‘যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই ঠিক ভুলের তফাতটা বুঝতে পেরেছেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো মঞ্চে এমন ভুল কীভাবে হতে পারে? কাজাখস্তানের প্রতিযোগী নিয়মমাফিক লড়াই করেনি।’