হায়দরাবাদ: সামনেই ভ্যালেন্টাইস ডে৷ প্রেমিক যুগলদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি পালনে কমবেশি সবাই উৎসুক৷ ইতিমধ্যেই কেউ কেউ হয়ত পরিকল্পনাও করে ফেলেছেন কী করে এই দিনটিকে আরও সুন্দর করে তোলা যাবে তাঁর সঙ্গীর কাছে৷ কিন্তু এই বিশেষ দিনটি পালনে বাধা দিতে রাস্তায় নেমে পরেছে স্বঘোষিত ভারতীয় সংস্কৃতির রক্ষক বজরঙ দল৷ তাদের দাবি, ভ্যালেন্টাইনস ডে বিদেশী সংস্কৃতি৷ তাই এই দিনটি পালন করা যাবেনা৷

প্রতিবছরের মত এবছরও সেই দাবি নিয়ে বানাজারা এবং জুবিলি হিলসের বিভিন্ন ক্লাব ও পাবে হানা দিয়েছে বজরঙ্গ দল৷ উদ্দেশ্য, পাব ও ক্লাবের মালিকদের এই দিনটিতে কোন বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন না করার অনুরোধ করা৷ তবে শুধু পাব ও ক্লাবে হানা দিয়েই ক্ষান্ত নয় ভারতীয় সংস্কৃতির রক্ষাকর্তারা৷

বজরঙ দলের ভারপ্রাপ্ত বিশাল প্রসাদ জানিয়েছেন, তারা ‘লাভার্স ডে’ সম্পর্কিত উপহার বিক্রেতাকারীদের দোকানগুলিতেও হানা দিচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ এই ধরণের উৎসবগুলি পালন করা ভারতীয় সংস্কৃতির বিরোধী৷ এই ধরণের বিদেশী সংস্কৃতিকে আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়৷ আমরা মানুষকে জানাচ্ছি যে কী করে যুবসম্প্রদায় এর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে এবং নিজেদের ভবিষ্যত নষ্ট করছে৷ পাশাপাশি জনসমক্ষে নিজেদের বোকা বানাচ্ছে৷’’

প্রায় প্রতি বছরই এই দিনটি পালনে বাধা দিয়ে আসছে বজরঙ্গ দল৷ তারা বিভিন্ন হুমকি দেয়৷ কেউ যদি তাদের হুমকি না মানে তাহলে বিভিন্ন হিংসাত্বক কাজকর্মেও মত্ত হয় তারা৷ তাই এবছর বিভিন্ন জায়গায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে পুলিশ৷ বিশেষত সেই সব জায়গায় যেখানে জনসমাগম বেশি হয়৷

এবিষয়ে জুবিলি হিলস থানার ইন্সপেক্টর পি চন্দ্র জানিয়েছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি জুবিলি এলাকায় মোট ২৩ টি দল থাকবে৷ এলাকার পাবগুলি যাতে রাত ১২ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় তা নিশ্চিত করবেন এলাকার দায়িত্বে থাকা দল৷ কোন প্রেমিক যুগলকে জোর করে বিয়ে না দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে বজরঙ্গ দলকে৷ কিন্তু একাধিকবার সতর্ক করে দেওয়ার পরও যদি দলের কেউ শান্তি লঙ্ঘন করেন তাহলে তাকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

তবে বজরঙ দলের জোর জবরদস্তিকে মেনে নিতে পারছে না সাধারণ মানুষ৷ তাদের বক্তব্য, ‘‘আমরা কী করব আর কী করব না, তা বলার কোন অধিকার ওই দলের নেই৷ আমাদের ইচ্ছা হলে আমরা সেলিব্রেট করব৷ কারণ কোন আইনে এটা বলা নেই যে আমরা সেলিব্রেট করতে পারব না৷’’