দেবময় ঘোষ, কলকাতা: সেদিন ছিল ১৩ মার্চ। আজ বুধবার, ১৪ অগস্ট।

মাস পাঁচেক আগের কথা। দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে বসে সাংবাদিক সম্মেলনে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, সব রাস্তাই খোলা আছে। মুখে না বললেও সে রাস্তা বিজেপি বা তৃনমূল কংগ্রেসের পথ ধরতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মধ্যবয়সী এই অধ্যাপিকা।

তবে, তাঁর বন্ধু শোভন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু বলতে চাইছিলেন না বৈশাখী। বলেছিলেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় রাজনীতি করেন। আমি করি না। ও কোন দিকে যাবে আমার তা বলা সম্ভব নয়। পাশে শোভন ছিলেন না। সংবাদমাধ্যমের প্রবল আবেদনে শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন মেয়রকে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে হাজির হতে হয়েছিল।

দু’তরফেই রাস্তা খোলা থাকলেও সেই মুহূর্তে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা যে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেই, তা Kolkata24x7 কে এক প্রশ্নের জবাবেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন তিনি। মুকুল রায়, অরবিন্দ মেনন এবং কৈলাশ বিজয়বর্গীয়-এর সঙ্গে কি তাঁর গোপন বৈঠক হয়েছে? বৈশাখীর জবাব ছিল, নামগুলি যখন বলেই দিলেন তখন গোপন রইলো কই? আপনার কাছে যদি খবর থাকে তবে হয়েছিল। তবে তার কিছুক্ষন আগেই বৈশাখী বলে দিয়েছিলেন, তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। তাঁকে ভেবে দেখতে বলা হয়েছে। মার্চ থেকে অগস্ট।

পাঁচ মাসেই নিজের পথ বেছে নিয়েছেন বৈশাখী। যা খবর, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পথে বৈশাখী। সঙ্গে শোভন। ওই দিন শোভন বলেছিলেন, তৃণমূল তার কাছে সন্তানসম। সন্তানকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন না তিনি। আবার যদি দেখেন, ব্যক্তি হিসাবে তিনি অপমানিত হচ্ছেন, তাও মানবেন না। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছিলেন, ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। ভালোবাসা দিয়ে বৈশাখীকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু ভয় দেখলে জেদ বাড়ে।

কারণ বৈশাখী মনে করেন, তিনি নির্দোষ এবং ভুক্তভোগী। দুই বন্ধুই ক্ষোভ লুকিয়ে রাখেননি। শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্ধুত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এবং সংবাদমাধ্যমে কম চর্চা হয়নি। জল এতদূর গড়ায় যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও হস্ত ক্ষেপ করতে হয়। কলকাতার মেয়র পদে থেকে ইস্তফা দেন শোভন। কিছু মাস আগে, লোকসভা নির্বাচনের সময়, রায়চকে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েন শোভন এবং বৈশাখী। দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে। জেলা পুলিস চুপচাপ হয়ে যায়। সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন বৈশাখী।

নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে বৈশাখী সবটাই জানান। ওই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়েছিলেন? Kolkata24x7 এর প্রশ্নে বৈশাখী বলেছিলেন, ভয় হয়েছিল। কিন্তু যখন বাড়ি পরিবারকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলাম, তখন মনে হয়েছিল, জীবন একটাই। মাথা তুলে দাঁড়াবো। শোভনকে তৃণমূলে ফেরাতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতার বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বয়ং চেষ্টা করেছিলেন। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। কিন্তু কাজ হয়নি। দিল্লিতে বিজেপির পথেই চলেছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। এক জীবনে, রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে ঠিক ৫ মাস সময় নিয়েছেন বৈশাখী।