স্টাফ রিপোর্টার, বীরভূম: বিতর্ক ও অনুব্রত মণ্ডল যেন সমার্থক৷ এবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ৷ দলীয় সভামঞ্চ থেকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন করানোর নির্দেশ দিলেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি৷ যা নিয়ে সরব বিরোধীরা৷ বিষয়টি কমিশনকে জানানো হবে বলে দাবি বিরোধী দলের নেতাদের৷

গত বছর অক্টোবর মাসের ঘটনা৷ শাসক দলের খয়ড়াশোল ব্লক সভাপতি দীপক ঘোষের ওপর অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা প্রাণঘাতী হামলা চালা। চলে এলোপাথারি গুলি। এমনকী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোও হয় তাঁকে। আশঙ্কা জনক অবস্থায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷ পরে সেখানেই মৃত্যু হয় ওই নেতার৷

বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই দীপক ঘোষের উপর হামলা হয়েছে৷ তদন্তে নেমে পুলিশ শাসক দলেরই কর্মী উজ্জ্বল কাদেরিকে গ্রেফতার করে৷ এর পেছনেও অনুব্রত মণ্ডলের হাত ছিল বলে জানা যায়৷ বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে দীপক ঘোষ খুনে অভিযুক্ত কাদেরি৷ রবিবার বোলপুরে দলীয় সভায় গিয়ে খুনে আভিযুক্ত উজ্জ্বল কাদেরিকে জামিন করানোর জন্য সরকারী আইনজীবীর কাছে আবেদন করেন অনুব্রত মণ্ডল৷

এই আবেদন আসলে নির্দেশ৷ বিরোধীদের প্রশ্ন, দলীয় সভায় কিভাবে সরকারী আইনজীবী উপস্থিত থাকেন? কীভাবেই-বা একজন খুনের অভিযুক্তকে জামিনের নির্দেশ দিতে পারেন একটি দলের জেলা সভাপতি? পুরো বিষয়টিই আইন বিরুদ্ধ৷ এই নির্দেশ দিয়ে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন শাসক দলের দোর্দদণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত৷ সম্পূর্ণ ঘটনা কমিশনকে জানানো হবে বলে দাবি জেলা বিজেপি নেতৃত্বের৷

তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, ঘটনার পর মাস তিনেক অতিক্রান্ত৷ পুলিশ তদন্তে কিছু পায়নি৷ ফলে জামিন এমনিতেই হয়ে যেত৷ তাই দলীয় সবা থেকে সরকারী আইনজীবীকে ওই আবেদন করেছেন তিনি৷ এতে ভুলের কিছু নেই৷ নির্দেশ, যা ঘিরে নানা অভিযোগ৷ স্বাভাবিকঊভাবেই ভোটের মরসুমে আপাতত আরও একবার সংবাদ শিরোনামে অনুব্রত৷