স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: কেটে গিয়েছে ১০ টা মাস৷ স্বামীকে খুনের অভিযোগে ঠাই হয়েছিল কারাগারে৷ অবশেষে জামিন পেলেন অনিন্দিতা পাল৷ মঙ্গলবার বারাসত আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে৷ ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তিনি জামিন পান৷ তারপর দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরলেন আইজীবী অনিন্দিতা৷ যদিও তার পাসপোর্ট জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

প্রায় ১০ মাস আগে ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী রজত কুমার দে খুন হন৷ তার স্ত্রী অনিন্দিতা পালের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠে৷ যিনি নিজেও একজন আইনজীবী৷ মৃত্যুর চারদিন পরে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ৷ ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, রজতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে৷ প্রাথমিক অনুমান শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে৷ সেদিন গভীর রাতে নিউটাউনের ডিবি ব্লক থেকে আইনজীবী রজত কুমার দে-কে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ৷ তখন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখান থেকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়েছিল৷

এরপরই রজতের বাবা সমীর কুমার দে পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ করেন৷ রজতের স্ত্রী, শ্যালক, শ্বশুর ও শাশুড়ী এই চার জনের নামে নিউটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি৷ এরা হল অনিন্দিতা পাল দে, অলোক পাল,অভীক পাল ও শ্রাবণী পাল৷ মৃত আইনজীবীর বাবা সমীর কুমার দে বিধাননগর আদালতে আবেদন করেছিলেন রজতের ময়নাতদন্ত যাতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে হয় এবং ভিডিওগ্রাফি করা হয়৷ আদালতের নির্দ্দেশ মত সেই সময় ময়না তদন্ত হয়৷

মামলা চলাকালীন এক সময় বারাসত ও কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়৷ পরে অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অনিন্দিতা। আবেদনের ভিত্তিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। সেই নির্দেশ জমা দেওয়ার পরে মঙ্দলবার বারাসত আদালত অনিন্দিতাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন।