বদ্রীনাথ মন্দিরে শ‘য়ে শ‘য়ে ভক্ত প্রতিদিন ভিড় জমান৷ তাদের মনষ্কামনা পূরণের উদ্দেশে৷ উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ শহরে অবস্থিত এই মন্দিরটিতে বিষ্ণু দেবতাকে পূজা করা হয়৷ এই মন্দিরটি ছোট চারধাম নামেও পরিচিত৷ শীতকালে এই মন্দিরটি ভক্তদের দর্শনের জন্য একেবারেই বন্ধ থাকে৷ গত মে মাস থেকে এই মন্দিরটি ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়৷ বিশ্বের দরবারে এই মন্দিরটি খুবই বিখ্যাত৷ কথিত আছে, এই মন্দিরটি খুবই জাগ্রত৷ দেশ বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা এই মন্দিরটিতে আসেন তাদের মনষ্কামনা পূরণের উদ্দেশে৷ মে মাস থেকে নভেম্বর অবধি খোলা থাকে এই মন্দিরটি৷ বদ্রীনাথ ভারতের জনপ্রিয় তীর্থগুলির মধ্যে একটি৷ প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বিষ্ণুপুরাণে এই মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে৷ উত্তরাখন্ড রাজ্যের চামোলি জেলায় গাড়োয়াল পর্বতের কোলে অলকানন্দা নদীর তীরে এই মন্দিরটি অবস্থিত৷ এই মন্দিরটি ঘিরেও রয়েছে অজানা বেশ কিছু কাহিনী যা অনেকেরই অজানা৷ এগুলি হল-

১) অলকানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত বদ্রীনাথে বসেই ঋষি বেদব্যাস মহাভারত মহাকাব্যটি লিখেছিলেন৷ প্রায় ১মিলিয়ন শব্দের এই মহাকাব্যটি হিন্দুদের প্রধান মহাকাব্য৷ এটিই বিশ্বের সবথেকে বড় মহাকাব্য৷

২) বদ্রীনাথে শিব ব্রক্ষ্মার মুন্ডচ্ছেদ করার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করেন৷ আর সেই প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যই তিনি এই মন্দিরটি তৈরি করার জন্য উদ্যোগ নেন৷ শিব পাঁচটির মধ্যে একটি মুণ্ডচ্ছেদ করার জন্যই এই মন্দিরটি তৈরি করেন৷ ব্রক্ষ্মা কপাল নামেও পরিচিত এই মন্দিরটি৷

৩)  মন্দিরটি তিনটি পৃথক অংশে বিভক্ত৷ গর্ভগৃহ, দর্শন মণ্ডপ ও সভামণ্ডপ নামে পরিচিত৷ এই মন্দিরটির মাথায় সোনার রংয়ের একটি গম্বুজ রয়েছে৷ মন্দিরের সম্মুখ ভাগটি পাথরের তৈরি৷

৪) পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, বিষ্ণু দেবতা এখানে বদ্রীনাথ রূপে পূজিত হন৷ ত্রেতা যুগেই একমাত্র মুনি ঋষিদের কাছে এই মন্দিরটির আসল চেহারাটি প্রকাশ্যে এসেছিল৷

৫) এই জায়গাটির নাম ছিল তপোভূমি৷ এই জায়গাটিতেই বহু বছর ধরে ধ্যান করেছিলেন বিষ্ণু দেবতা৷ আর সেই সময়ই তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী তাঁকে ছায়া দেওয়ার জন্য গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে পরে তার উপরে৷ স্ত্রীয়ের উপর খুশি হয়ে এরপরই ওই জায়গাটির নাম দেন বিষ্ণু বদ্রীনাথ৷