আগরতলা: বর্ষীয়ান বাম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বাদল চৌধুরীর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে ত্রিপুরার বিজেপি সরকার। এদিকে বাদল বাবু অসুস্থ হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে বেশ কয়েকদিন চিকিৎসাধীন। সিপিএমের অভিযোগ, জোর করে সেখানে ঢুকে টেনে হিঁচড়ে অসুস্থ বাদল চৌধুরীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানাতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফের প্রাক্তন মন্ত্রীকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে ভরতি করানো হয়।

বাদল বাবুর বিরুদ্ধে আগরতলা ফ্লাইওভার রূপায়ণে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে বিপ্লব দেব সরকার। সংশ্লিষ্ট দফতরের বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়রকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ ভিত্তি বলেই দাবি ত্রিপুরা রাজ্য সিপিএমের। বাদলবাবুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তিনি আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি তিনি নিরুদ্দেশ থাকায় একাধিক পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই বাদল চৌধুরীকে খুঁজতে সি পি এম রাজ্য দফতরে ঢুকে বেকায়দায় পড়ে পুলিশ। এমনকি কোনও আগাম নোটিশ ছাড়াই সিপিএমের মুখপত্র দফতরেও তল্লাশি চালিয়ে আরও বিতর্কে জড়ায় পুলিশ ও সরকার। মঙ্গলবার অসুস্থ বাদলবাবুকে টেনে হিঁচড়ে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বের করার সময় বাধা দেন তাঁর স্ত্রী। তিনিও নিগ্রহের শিকার বলে অভিযোগ সিপিএমের। পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আগরতলা শহরে সিপিএম প্রতিবাদ মিছিল করেছে। একাধিক প্রতিবাদ সভা হয়েছে।

মিছিলে অংশ নেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তাঁর দু দশকের সরকারের আমলে বিরোধীদের সঙ্গে এমন হয়নি বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের। বাদলবাবুর বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান শুরু হওয়ার পর বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণ জানিয়েছিলেন, বিষয়টি অনভিপ্রেত। তাঁর মন্তব্যের কারণে রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছিল।