তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: কচুরি পানা আর আবর্জনায় ভরতি এক সময়ের মল্ল রাজাদের রাজধানী বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহি যমুনা বাঁধ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে আর প্রশাসনের উদাসীনতায় শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই যমুনা বাঁধ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এক সময় যে জল পান করা যেত এখন তা নোংরা আবর্জনা, পোকামাকড়ে ভরতি। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

তৎকালীন মল্লরাজারা তাঁদের রাজত্বকালীন বিষ্ণুপুরে জলকষ্ট দূর করার জন্য বেশ কিছু বড় বড় জলাশয় তৈরী করেছিলেন। যা বাঁধ বা পুকুর নামে পরিচিত। ওই বাঁধ গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল যমুনা বাঁধ। সম্ভবত মল্লরাজারা বৈষ্ণবধর্মের দীক্ষিত হওয়ায় তাঁদের তৈরী বাঁধ বা পুকুর গুলির নামকরণের পিছনে ওইধর্মের ছাপ পাওয়া যায়। যেমন কালিন্দীবাঁধ, শ্যামবাঁধ, কৃষ্ণবাঁধ ও যমুনা বাঁধ। আবার কিছু কিছু বাঁধ রাজবংশের সদস্যদের নামেও দেওয়া হয়েছে, যেমন লালবাঈ-এর নামে লালবাঁধ। আবার এই শহরে পোকাবাঁধের নামকরণ হয়েছিল মল্লরাজ বীর হাম্বীর-এর নামে বীরবাঁধ। পরে কোনও কারনে এই বীরবাঁধের জলে পোকা হয়ে যাওয়ায়, তাকে ‘পোকাবাঁধ’ নামে ডাকা হতে থাকে বলে অনেকে মনে করেন। যদিও এবিষয়ে কোন প্রামাণ্য নথি নেই। সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে শহরের লালবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। বিষ্ণুপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মানুষের দাবী, দ্রুত যমুনা বাঁধ সংস্কারের কাজে হাত লাগাক প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামা করঙ্গা, শম্পা করঙ্গারা বলেন, এক সময় এই যমুনা বাঁধের জল খাওয়ার পাশাপাশি রান্নার কাজেও ব্যবহার করা যেত। কিন্তু বর্তমানে নোংরা, আবর্জনার পাশাপাশি কচুরিপানায় ভরতি। ফলে বিশালাকার এক পুকুর এখন একটি ছোটো ডোবায় পরিনত হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় ওই নোংরা জলেই তাদের স্নান করতে হয়। অতিদ্রুত যমুনাবাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই বিষয়ে বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, আমরা যমুনা বাঁধের সম্পূর্ণ এলাকা নির্নয় ও কচুরিপানা মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। যমুনা বাঁধ তার আগের রুপে ফিরে যাক। যমুনা বাঁধকে কেন্দ্র করে এক সময় অনেক মানুষ যেমন জীবিকা নির্বাহ করতেন, তেমনি ওই জল অনেকেই নাকি পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করতেন। তাদের তরফে যত দ্রুত সম্ভব যমুনা বাঁধকে আগের মতো তৈরী করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।