তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: জরাজীর্ণ শ্রেণী কক্ষের মাথার উপর ছাদ ভেঙ্গে পড়তে পারে যে কোনও সময়। এমন আশঙ্কাকে সঙ্গী করে প্রতিদিন ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন অভিভাবকরা। ঘটনাটি বাঁকুড়ার ‘জঙ্গলমহল’ বলে পরিচিত সারেঙ্গার ঢেপুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

দুর্বিষহ এই পরিস্থিতে ছেলে মেয়েদের আর ঐ স্কুলে পাঠাবেন কিনা ভেবে উঠতে পারছেন না ঢেপুয়া ও কোটালশোল এই দুই গ্রামের অভিভাবকেরা। ১৯৫৪ সালে শিক্ষানুরাগী চক্রধর মহাপাত্রের দান করা জমিতে ঢেপুয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে বর্তমানে প্রাক্ প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ৫২৷

দু’জন নিয়মিত শিক্ষক ও এক পার্শ্ব শিক্ষিকা নিযুক্ত আছেন। জরাজীর্ণ স্কুল বাড়িটিকে ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবে আর অভিভাবকদের দাবী মেনে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ফলে একটি মাত্র ক্লাস রুম আর খোলা বারান্দায় কোনও রকমে বসতে হয় ছাত্র ছাত্রীদের।

গ্রামের অভিভাবক থেকে কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকা সকলেরই দাবী, কয়েক দিন আগে হঠাৎ ই একটি বিশালাকার ছাদের চাঙ্গড় ভেঙ্গে পড়ে। স্কুল ছুটি থাকার কারণে বড় সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল বাড়ি পুনর্নির্মানের দাবী জানিয়ে প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত মহাপাত্র অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের এই স্কুলে পঠন পাঠনের পানীয় জল থেকে স্কুল গৃহ, ন্যুনতম পরিকাঠামো নেই। কয়েক দিন আগেই পুরনো বাড়ির ছাদের একাংশ ভেঙ্গে পড়েছে। ঐ দিন স্কুল ছুটি থাকার বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলে তিনি জানান।

অভিভাবিকা সঞ্চয়িতা মহাপাত্র বলেন, ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়েও বাড়িতে নিশ্চিন্ত থাকতে পার িনা। ছাদ ভেঙ্গে পড়ার ঘটনার কথা জানিয়ে তিনিও বলেন, শিক্ষকদের বার বার সমস্যা সমাধানের কথা বলেছি, কিন্তু এটাও তো ঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছাড়া ঐ শিক্ষকদের এবিষয়ে করার কিছুই নেই।

ঢেপুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্ধার্থ মণ্ডল বাস্তব পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ছাড়া এবিষয়ে আমাদের করার কিছুই নেই। ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এখন প্রাক্ প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণীর পড়ুয়াদের এক জায়গায় বসার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছি। পূর্বতন প্রধান শিক্ষক স্কুলের অবস্থার কথা জানিয়ে একাধিকবার ছবি সহ আবেদন জানিয়েছিলেন। কাজের কাজ কিছু হয়নি।

এবিষয়ে জানতে স্থানীয় অবরবিদ্যালয় পরিদর্শককে একাধিকবার ফোন করে ও তাঁর অফিসে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান রিঙ্কু বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানান।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও