কলকাতা: বুলবুল নিয়ে কেন্দ্র থেকে কতটা সাহায্য মিলবে তা নিয়ে আগেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়েও বৃহস্পতিবার সরব হয়েছিলেন মমতা। বৃহস্পতিবার এই নিয়েই ট্যুইট করে তৃণমূল নেত্রীকে বিঁধলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

এদিন ট্যুইটে তিনি লেখেন, ‘মমতা দিদির এত মিথ্যাচার সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বুলবুল থেকে জয়েন্ট কিংবা পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘নাফেড’-কে দোষারোপ করা। সবটাই মিথ্যাচারের চূড়ান্ত পর্যায়।’
বৃহস্পতিবারই রাজ্যে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সংস্থা নাফেডের ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ দেওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্র তা দিচ্ছে না।’ রাজ্যের প্রতি বঞ্চনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান তিনি।

এর আগেও বুলবুল নিয়েও একই সুর শোনা গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রীর গলায়। রাজ্যের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পরে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘না-আঁচালে বিশ্বাস নেই। ওরা তো বলেছে, দল পাঠাবে। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করবে। এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়!’

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, ঝড়ে ১৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রাণ গিয়েছে ন’জনের। পাঁচ লক্ষ ঘরবাড়ির নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে ছ’লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসেব দু’-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তার পরে এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে নির্দিষ্ট দাবি জানাবে রাজ্য সরকার।

প্রশাসনিক স্তরে দাবি জানালেও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের পরে ত্রাণ বিলি নিয়ে মমতার প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে-ভাবে অভিযোগ তুলছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘সময়টা রাজনীতি করার নয়। এখন একসঙ্গে মিলে দুর্গত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। রাজনীতি আমরাও করতে পারি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা কিন্তু চুপ করে দেখেছি। মানুষের পাশে দাঁড়ান। এখন আর রাজনীতি বা ভাঙচুর করবেন না।’ এর পাল্টা হিসাবে মুখ খুলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, ‘আমরা তো রাজনীতি করিনি। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঝড়ের পরে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন, সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় দল ক্ষয়ক্ষতি দেখতে আসছে। উল্টে তৃণমূলই নামখানায় আমাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে কালো পতাকা দেখিয়েছে। তা হলে রাজনীতিটা করল কে?’

শুধু বুলবুলই নয় এর আগে জয়েন্ট প্রবেশিকায় আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে বাংলা নেই কেন? এর প্রতিবাদে গত ১১ নভেম্বর ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্না শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল।

জয়েন্টে আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে শুধুমাত্র স্থান পেয়েছে গুজরাতি। আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে বাংলা ব্রাত্য কেন? সেই প্রশ্নেই সরব হয়েছিল তৃণমূল। শাসকদলের এই ধর্নায় ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ধর্না মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই জয়েন্টে প্রবেশিকার পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গুজরাতি ছাড়া অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাগুলি কেন ব্রাত্য এই নিয়েই তৃণমূল ভবনে অন্যান্য সাংসদ এবং বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠক শেষেই সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘অন্য ভাষাতেও জয়েন্টের প্রশ্নপত্র হওয়া উচিত। আমার গুজরাতি ভাষায় কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলা বা অন্যান্য ভাষাগুলি ব্রাত্য থাকবে কেন? বাংলাসহ অন্যান্য ভাষাতেও চালু করতে হবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স।’

এই সমস্ত দাবিকে নস্যাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘মিথ্যাচার’ করছেন বলে টুইট করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।