কলকাতা: এটিকে-মোহনবাগানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণে প্রাথমিকভাবে ক্লাবের সমর্থকেরা দ্বিধাবিভক্ত হয়েছিলেন বটে। তবে যৌথ ভেঞ্চারের প্রথম বোর্ড মিটিং’য়ের পর সংযুক্তিকরণের বিরোধীতা নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করছেন না সমর্থকেরা। কারণ ১৩১ বছরে ঐতিহ্য-পরম্পরা বজায় রেখেই পথ চলা শুরু হচ্ছে এটিকে’র। নাম এটিকে-মোহনবাগান হলেও জার্সি থেকে লোগো সবেতেই মোহনবাগানের জয়জয়কার।

ক্লাবের সিংহভাগ সমর্থকদের মত এই ঘটনায় স্বভাবতই খুশি আদ্যোন্ত মোহনবাগান সমর্থক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এটিকে’র সঙ্গে প্রিয় দলের এই সংযুক্তিকরণে দারুণ খুশি জনপ্রিয় গায়ক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি হলফ করে বলছেন এটা এক নয়া অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। তবে এটিকে-মোহনবাগানের কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন বাবুল। তিনি অনুরোধ করেছেন এটিকে-মোহনবাগান যেন মোহনবাগানের ১৯১১ ঐতিহাসিক শিল্ড জয়ের জার্সি পরেই তাঁদের পথ চলা শুরু করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সম্পর্কিত এক বার্তায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘ইতিহাস আঁকড়ে থাকার মতো অনন্য অনুভূতি আর কিছু হতে পারে না। সূচনালগ্নে আমি এটিকে-মোহনবাগানকে অনুরোধ করব ১৯১১-র শিল্ড জয়ের নায়কদের ঐতিহাসিক জার্সি ফিরিয়ে আনতে। জার্সিটা ভীষণ সুন্দর দেখতে ছিল। আজকালকার দিনের জার্সি তৈরির উপকরণ ও কারুকার্যের মিশেলে সেটা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।’ এভাবেই হয়তো এটিকে-মোহনবাগান অমর একাদশকে আরও একবার সম্মান জানানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন বাবুল সুপ্রিয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার এটিকে-মোহনবাগানের প্রথম বোর্ড মিটিং নিয়ে পারদ চড়ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। কথামতোই গতকাল অনুষ্ঠিত হয় সেই ভার্চুয়াল বোর্ড মিটিং। ক্লাবের নাম এটিকে-মোহনবাগান চূড়ান্ত হলেও লোগো এবং জার্সির রং’য়ে মোহনবাগানের পরম্পরাই অটুট থাকে। এটিকে-মোহনবাগানের লোগো হিসেবে থাকছে আইকনিক পালতোলা নৌকোই। পাশাপাশি জার্সির রং হচ্ছে সবুজ-মেরুনই। শুধু তাই নয়, বাংলায় একটি বিশ্বমানের ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করা হয় শুক্রবার বোর্ড অফ ডিরেক্টরস মিটিং’য়ে।

পাশাপাশি মোহনবাগান মাঠকে বিশ্বমানের মাঠ তৈরির কথাও বৈঠকে ঘোষণা করেন কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। যাতে ওই মাঠে নির্দ্বিধায় আইএসএল কিংবা এএফসি স্তরের ম্যাচ সম্পন্ন করা যায়। সবমিলিয়ে এটিকের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পর প্রথম বোর্ড মিটিং’য়ে বাগানের প্রাপ্তির ভাঁড়ার পূর্ণ।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।