আসানসোল: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসার ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বিরুদ্ধে হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

লোকসভা নির্বাচন লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হয়েছে রাজযের শাসকদল তৃণমূল। অন্যদিকে মাত্র দুই আসন থেকে ১৮টিও আসনে পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। এরপর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে গিয়েছে হিংসাত্মক ঘটনা। প্রাণ গিয়েছে একাধিক মানুষের। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে।

আরও পড়ুন- ‘মততা ব্যানার্জির অনুষ্ঠানে এসেছি, এখানে ঠিক কি হচ্ছে জানি না’ মূর্তি উন্মোচনে এসে বলল ছাত্র

এই অবস্থায় মঙ্গলবার মুখ খুলেছেন আসানসোলের দ্বিতীয়বারের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। মোদী সরকারের পরবেশ দফতরের এই প্রতিমন্ত্রীর মতে, “রাজ্যে হিংসার জন্য সম্পূর্নভাবে দায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাজ্যে হিংসায় উসকানি দিচ্ছেন। দলীয় কর্মী এবং পুলিশবাহিনীকে এই হিংসার কাজে ব্যবহার করছেন মুখ্যমন্ত্রী।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবারে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সন্দেশখালিতে সুকান্ত মণ্ডল, প্রদীপ মণ্ডল, তপন মণ্ডল এবং দেবদাস মণ্ডল নামের চার কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে বিজেপি সূত্রে৷ এদের মধ্যে সুকান্ত ও প্রদীপের চোখে গুলি করা হয়েছে৷ তপনের মাথায় গুলি লেগেছে৷ এখনও ১৮ জন বিজেপি কর্মী নিখোঁজ বলেও বিজেপির দাবি৷ অন্যদিকে কায়ুম মোল্লা নামের এক তৃণমূল কর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন এই সংঘর্ষে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এবং ওখানকার তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান জড়িত রয়েছেন এই ঘটনার পেছনে। বিজেপি কর্মীদের খুন করেছে৷

আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসায় গলসীতে খুন তৃণমূল কর্মী, অভিযুক্ত বিজেপি

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের দলীয় কর্মীকে খুন করার অভিযোগ এনেছেন উত্তর ২৪ পরগণার তৃণমূলে জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ জানান, বিজেপির হার্মাদ বাহিনী তাদের দলের কর্মী কায়ুন মোল্লাকে গুলি করে খুন করেছে৷

ওই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহলে। সেই বিষয়টি নিয়েই মূলত মুখ খুলেছেন বাবুল। তিনি বলেছেন, “অনেক জায়গায় শুনছি সন্দেশখালিতে রোহিঙ্গাদের সাহায্য নিয়ে হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল। এটা কিন্তু মারাত্মক বিষয়।” সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “এই ধরণের ঘটনার জেরে কেবলমাত্র ভারতে নয়, সমগ্রবিশ্বের কাছে বাঙালির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনও নৈতিক অধিকার নেই বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।