নয়াদিল্লি: ‘গ্রামের ছেলে তাপস পাল, রাজনীতির নোংরামোর শিকার’, অভিনেতা তাপস পালের মৃত্যুতে এমনই প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র। তাপস পাল ও বাবুল নিজেও হুগলির ছেলে। দুজনেই বিনোদন জগতে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করার পরই যোগ দেন রাজনীতিতে। তাপস পালের অকাল-প্রয়াণে অন্যান্যদের সঙ্গে শোকাহত বাবুল।

অসুস্থ হওয়ায় ১ ফেব্রুয়ারি তাপস পালকে ভর্তি করা হয় মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে ভেন্টিলেশনে রাখা হয় অভিনেতাকে। ৬ দিন ভেন্টিলেশনে কাটানোর পর কিছুটা উন্নতি হয় অভিনেতার স্বাস্থ্যের। ৬ ফেব্রুয়ারি ভেন্টিনশন থেকে আইসিইউ-তে বের করা হয় তাঁকে। তবে সোমবার রাতে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তাপস। ভোর ৩টে ৩৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাপস পালের মৃত্যুতে শোকাহত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তাপস পাল পরিস্থিতির শিকার হলেন বলেই মনে করেন বাবুল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, ‘তাপস পালের মতো মানুষ একটু বিপজ্জনক পরিস্থিতির শিকার হলেন।’

২০০১ সালে তাপস পাল যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। ২০০১ সালের বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিটে জয়। ২০০৬এ আবারও ঘাস ফুলের এমএলএ নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে বড় দায়িত্ব পেলেন। এবার কেন্দ্রের নির্বাচনে জয়। ২০১৪ সালে ব্যাক টু ব্যাক কৃষ্ণনগর থেকে সাংসদ নির্বাচনে জয়।

কিন্তু এরপরেই মস্ত ভুল। ২০১৪ সালেই চৌমাথা গ্রামে গিয়ে এক ছোট্ট জনসভায় গিয়ে ভয়ঙ্কর মন্তব্য প্রকাশ করে ফেলেন ঘরের ছেলে তাপস। কু-মন্তব্যের পরেই ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সাহেবকে। দলও পাশ থেকে সরে যায় এহেন মন্তব্যের পর থেকে। চাপের মুখে ক্ষমা চাইলেও এরপর থেকেই নিজেকে সবকিছু থেকে সরিয়ে নেওয়া।

দলীয় বৈঠকে অংশ নিলেও আর প্রকাশ্যে সেই অর্থে কোনও কর্মসূচি কিংবা অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। এরপর ২০১৬ সালে রোজ ভ্যালি কাণ্ডে নাম জড়ানো যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিল। আর ঘরে ফেরা হয়নি ঘরের ছেলের। ক্রমে সাধারণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। চেয়েছিলেন আমেরিকায় মেয়ের কাছে চলে যেতে। তাও হল না। চলে গেলেন সবার সাহেব।