কলকাতা: এনআরসিই কাল হয়েছে। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর এ কথা স্বীকার করে নিলেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তবে বাবুলের দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁরা ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবেন৷

শুক্রবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন বাবুল৷ তিনি লিখেছেন, আমি একজন স্পোর্টস লাভার, তাই সেই ভাষাতেই বলছি ! খেলায় হার জিৎ আছে – থাকবে! এটা তো সত্যি যে এনআরসি নিয়ে তৃণমূলের মানুষকে মিথ্যে ভয়-দেখানো-প্রচারকে আমরা কাউন্টার করতে পারিনি! কেন বাংলায় আগে #CitizenAmendmentBill কার্যকরী হবে আর তারপর এনআরসি, সেই সত্যটা ভোটারদের পরিষ্কার করে বোঝাতে পারিনি !

বাবুল এও লিখেছেন, খেলা দিয়ে যখন শুরু করেছিলাম তখন একজন অমর ফুটবলারের উক্তি দিয়েই শেষ করি! বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন একবার একটি ম্যাচে হেরে জন ক্রুয়ফ বলেছিলেন, ” We shall Win because of today’s Loss” – Barcelona সেই বছর স্প্যানিশ লীগ জিতেছিল ! আর কিছু বলছি না ! শুভেচ্ছা রইলো

 

বঙ্গ বিজেপির কাছে এই ধাক্কা তাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত সেটা তাদের শীর্ষ নেতৃ্ত্বের কথাতেই স্পষ্ট । বৃহস্পতিবারই দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘‘এই ফল হওয়ার কথা ছিল না। খড়্গপুর (সদর), কালিয়াগঞ্জ, করিমপুর— তিন বিধানসভা কেন্দ্রেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছিলাম। তার পরেও এই ফলের কারণ বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে! এনআরসি নিশ্চয়ই একটা প্রভাব ফেলেছে।’’

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারে বারে হুংকার দিচ্ছেন, দেশে এনআরসি হবেই। দিলীপ ঘোষরাও ‘দু’কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’কে বাংলা ছাড়া করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ তার প্রভাব যে উপনির্বাচনে পড়েছে সেটা টের পাচ্ছে রাজ্যের গেরুয়া শিবির৷

এনআরসির প্রভাব করিমপুরে পড়বে সেটা আগেই আন্দাজ করেছিলেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷ সেকারণে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলকেই এগিয়ে রেখেছিল তারা৷ কিন্তু কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর-জেতার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল বিজেপি৷ রায়গঞ্জ লোকসভা আসনের অন্তর্গত কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় বিস্তর এগিয়ে ছিল তারা। লোকসভা ভোটের সেই ৫৭ হাজারের ব্যবধান কমিয়ে কীভাবে ২৪১৪ ভোটে জয় ছিনিয়ে নিল তারা? কালিয়াগঞ্জে প্রায় ৬০ শতাংশ রাজবংশী মানুষ।

প্রাথমিকস্তরের বিশ্লেষণে শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষই মনে করছে, এনআরসি ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। লোকসভা ভোটে বিজেপির দিকে থাকা এই অংশে এবার বড় ভাগ বসিয়েছে তৃণমূল। সেই কারণেই একই ভাবে সীমান্তবর্তী এই কেন্দ্রের সংখ্যালঘু ভোটারও আশ্রয় খুঁজেছে তৃণমূলের কাছেই। রাধিকাপুর, মোস্তাফানগর, মালগাঁওয়ের মতো সংখ্যালঘু অঞ্চলে প্রত্যাশিত ‘লিড’ তৃণমূলকে বিপুল ব্যবধান পেরোতে সাহায্য করেছে। তিন-চারজন সাংসদ, দলে দলে কেন্দ্রীয় নেতাদের নামিয়েও এই জমি রক্ষা করতে পারেনি বিজেপি।

প্রায় ৪৭ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকা খড়্গপুর সদরেও তৃণমূলের লড়াই সহজ ছিল না। তার উপরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের ছেড়ে আসা এই বিধানসভা কেন্দ্র তাঁরই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই বিধানসভা আসনটি খড়্গপুরের গোটা পুর এলাকাই। এই পুরসভা তৃণমূলের হাতে থাকলেও নিজেদের শক্ত ওয়ার্ডগুলিতে অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। উদ্বাস্তু কলোনি তালবাগিচার ৩টি ওয়ার্ডে একচেটিয়া ভোট পেয়েছে তৃণমূল। গ্রাম লাগোয়া পাঁচবেড়িয়া অঞ্চলের মতো সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় এগিয়ে থেকেছে তৃণমূল।