স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জেএনইউ যাওয়া নিয়ে দীপিকা পাডুকোনের উপর যখন ক্ষুব্ধ বিজেপির একটা বড় তখন দলের বিপক্ষে গেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়৷ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দীপিকার বিরুদ্ধে কোনও কটূ কথা তাঁর পছন্দ নয়৷

সাত জানুয়ারি জেএনইউ-তে গিয়ে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন৷ তারপরই সোশ্যাল সাইটে তাঁর অভিনীত ছবি ‘ছপাক’ বয়কটের ডাক দেয় গেরুয়া শিবির। একসময় যাঁকে ‘ভারতলক্ষ্মী’ হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি সরকার মঙ্গলবারের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধেই সবরকম আক্রমণে নেমে পড়েছে বিজেপি। দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র তেজিন্দর পাল সিং ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর সমর্থনে দাঁড়ানোর ‘অপরাধে’ দীপিকার সমস্ত ছবি বয়কট করার ডাক দেন। ট্যুইটারে তাঁকে সমস্বরে সমর্থন করেছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এই ইস্যুতে অবশ্য সরকারিভাবে কোনও বক্তব্য রাখা হয়নি।

এপ্রসঙ্গে বাবলু সুপ্রিয় বলেন, ”ইদানীং লোকজন সোশাল মিডিয়াতে দীপিকার জেএনইউ যাওয়া ও বিশেষ একদল ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে অত্যন্ত খারাপ কথা বলা হয়েছে। যদিও যাদের সঙ্গে তিনি দেখা করে এসেছিলেন সেদিন তাদের নামই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে হিংসাত্মক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে, অনেক গোপন তথ্য উঠে আসছে। কিন্তু তার পরেও বলব, দীপিকার বিরুদ্ধে কটূ কথার আমি তীব্র নিন্দা করি। কোনও ফোরামেই কখনও এই ধরনের অপমাজনক কথাবার্তা বলা উচিত নয়।”

সোশাল মিডিয়ায় দীপিকার ট্রোলিংয়ের কড়া সমালোচনা করে বাবুল সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যে তিনি দীপিকা পাডুকোনের অত্যন্ত বড় ফ্যান এবং দীপিকা অভিনীত একটি চরিত্রের নামেই ছোটমেয়ের নাম রেখেছেন তিনি।

বাবুল বলেন, ”আমি দীপিকা পাডুকোনের অত্যন্ত বড় অনুরাগী। ওই কারণেই আমার ছোট মেয়ের নাম রেখেছি নয়না। ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’-তে ওটাই ছিল দীপিকার চরিত্রের নাম।”

তবে বাবুলের হঠাৎ দীপিকার পক্ষ নেওয়াটা মোদী-অমিত শাহদের ড্যামেজ কন্ট্রোল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ কারণ জেএনইউ-তে যাওয়ার পর অনুরাগ কাশ্যপ, ডেরেক ও ব্রায়ানরা যখন দীপিকার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তখন টুইট করে তাঁদের কটাক্ষ করেছিলেন বাবুল নিজে৷

উল্লেখ্য, তৃণমূল সাংসদ তথা রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এক যুগলকে ‘ছপাক’-এর টিকিট উপহার দিয়েছেন। এরপরই বাবুল টুইটে লিখেছিলেন, ‘‘ভাই, আমি আজ কলকাতায়। পরিবার চাইছে ‘ছপাক’ দেখতে। অনেক বার আপনাকে ফোন করেছি। দয়া করে আমাকে চারটে টিকিট দিতে পারেন? আমি টাকা দিয়ে দেব।’’বাবুলের এই টুইটে যে খোঁচা ছিল, তা বুঝতে রাজনৈতিক শিবিরের অসুবিধা হয়নি।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব