কলকাতা: আপাতত সংঘাতে দাঁড়ি। দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ায় এবার দিলীপ ঘোষকে শুভেচ্ছা জানালেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। টুইটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, অনেক ইস্যু নিয়েই তাঁর ও দিলীপ ঘোষের মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা একজোট।

দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস থেকে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্য সভাপতি হন দিলীপ ঘোষ। তারপর ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। দিলীপ ঘোষের আমলেই রাজ্যে বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়েছে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এরাজ্যে ভাল ফল করেছে বিজেপি৷ দিলীপ ঘোষ নিজেও মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে জিতে লোকসভার সদস্য মনোনীত হন। কেন্দ্রীয় বিজেপি সূত্রের দাবি, বঙ্গ বিজেপির পারফরম্যান্সে খুশি মোদি-অমিত শাহরা। তার উপর আরএসএস-এর পূর্ণ সমর্থন দিলীপ ঘোষের কাছে বাড়তি পাওনা। তাই বিকল্প কোনও মুখের কথা চিন্তা না করেই দিলীপ ঘোষকে ফের একবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে বেছে নেয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

এদিকে, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে নদিয়ার জনসভায় একটি মন্তব্য করায় দলেরই অনেকের বিরাগভাবজন হন দিলীপ। সেই জনসভায় নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার নিদান দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। দিলীপের বক্তব্যের সমালোচনা করে টুইট করেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। টুইটে বাবুল লেখেন, ‘দিলীপ ঘোষ যা বলেছেন, তা তাঁরই মস্তিস্কপ্রসূত। দল দিলীপ ঘোষের মন্তব্য সমর্থন করে না। বিজেপি উত্তরপ্রদেশ, অসমে বিজেপি সরকার কখনও কারও উপর গুলি চালায়নি৷ দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন দিলীপদা।’

দলীয় সাংসদের এমন মন্তব্যেও অবস্থানে অনড় ছিলেন দিলীপ। পালটা বাবুলকে নিশান করে দিলীপ ঘোষ সাফ বলেন, ‘ভুল কিছু বলিনি। যা বলেছি দলীয় লাইন মেনেই। পার্টি লাইন কে ঠিক করেন বাবুল সুপ্রিয় না অমিত শাহ৷’

তবে আপাতত দিলীপ-বাবুলের ‘তু-তু, ম্যায়-ম্যায়’-এ ইতি৷ দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর দিলীপকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি টুইটে বাবুল লেখেন, ‘দ্বিতীয়বারের জন্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি হওয়ায় দিলীপ ঘোষকে শুভেচ্ছা। কয়েকটি বিষয়ে আমাদের মতানৈক্য থাকলেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা একজোট। আমাদের লক্ষ্য ২০২১। একসঙ্গে লড়েই তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাব।’

গত কয়েকদিন টুইট পালটা মন্তব্যে দিলীপ-বাবুল সম্পর্কে বেশ খানিকটা চিড় ধরেছিল। দলের এই বিরোধের সুযোগ নিয়ে রাজ্য বিজেপিকে টিপ্পনি কাটতেও শুরু করেন প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূলের নেতারা। আর তাই দ্বন্দ্ব আরও বাড়ানোর পথে না হেঁটে এবার সন্ধির খোঁজ গেরুয়া শিবিরে।