মুম্বই: অ্যাকশনে শুরু এবং অ্যাকশনেই…শেষ৷ মধ্যিখানে আছে একটু রোম্যান্স এবং একটু ইমোশন৷ এটা দিয়ে পরিচালক আহমেদ খান বানিয়ে দিলেন গোটা একটা সিনেমা যার নাম ‘বাগী ২’৷ এমন তো না যে অ্যাকশন সিনেমায় গল্প থাকবে না, কিন্তু সত্যিকারের সিনেমাপ্রেমী যাঁরা তাঁদের কিন্তু এই সিনেমা দেখলে গল্পের ক্ষিদে পাবেই, এটা হলফ করে বলাই যায়৷

সিনেমাতে রণি(রণদীপ প্রতাপ সিং) একজন আর্মি অফিসার৷ রণির সঙ্গে গোয়ায় গিয়ে দেখা হয় তার এক্স গার্লফ্রেন্ড নেহার(দিশা পাটানি)৷ যার ছোট্ট মেয়ে নিখোঁজ৷ তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছে না স্থানীয় প্রশাসন৷ সেই সময় তার পাশে এসে দাঁড়ায় রণি৷ তারপর জমজমাটি ফাইট সিক্যোয়েন্স৷ যা সিনেমার ইউএসপি৷

এটুকু বলা যেতে পারে টাইগারের অ্যাকশনই আপনাকে বসিয়ে রাখবে সিনেমা হলে৷ যদিও ছবির মধ্যে অযথা অ্যাকশন সিক্যোয়েন্সের সংখ্যা অনেক বেশী৷ মাঝে মাঝে মনে হতেই পারে কেন এত ফাইট? কেন এখানে ফাইট? এতটাও কি দরকার ছিল? কিন্তু কি আর করা যাবে এই সিনেমার ফ্রাঞ্চাইজির মূল উদ্দেশ্যই যে টাইগারকে অ্যাকশন হিরো রূপে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত করা৷

টাইগারের অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ করার কোন অবকাশ নেই৷ দিনে দিনে ওর অ্যাকশন স্কিল ভালোই ডেভলপ করছে৷ কিন্তু অভিনয়? থাক ওটা না বলারই মতো৷ ছবিতে অ্যাকশন ছাড়াও ডায়লগের একটা বড় ভূমিকা ছিল, যেখানে টাইগার এক্কেবারে ডিজাসটার৷ সিনেমাতে দিশা স্ক্রিন প্রেজেন্স অসাধারণ৷ তবে অভিনয়টা আরও পোক্ত করা প্রয়োজন৷ ‘বাগী ২’ তে তাঁর যতটা অভিনয় দরকার ততটাই করেছেন তিনি৷ তবে সিনেমার মূল সম্পদ মনোজ বাজপেয়ী(ডিগ), রণদীপ হুডা(এলএসডি), প্রতীক বব্বর(সানি)৷ তবে এই চারজনকে খুব একটা দেখা গেল না৷ কিন্তু কেন? তা পরিচালকই জানেন৷

পরিচালকের আসনে আহমেদ খানের কেরিয়ারে বেস্ট ছবি আপাতত এটাই৷ ছবির গান মোটামুটি ঠিকঠাক৷ স্ক্রিনপ্লে অসাধারন৷ লোকেশন ছবির জন্য পারফেক্ট৷ ফ্রি টাইম এন্টারটেইনমেন্টের জন্য দেখেই আসতে পারেন এই সিনেমা৷ পুরো পয়সা উসুল সিনেমা না হলেও হাফ পয়সা উসুল হবে তা বলাই যায়৷