মুম্বই:   লকডাউন আর বেহাল অর্থনীতির দোহাই দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়াকে সমর্থন জানালেন না শিল্পপতি আজিম প্রেমজি। যেভাবে বিভিন্ন রাজ্য সরকার শ্রম আইন তুলে দিতে চাইছেন এবং শ্রমিকদের কাজের ঘন্টা বাড়িয়ে দিচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন না এই শিল্পপতি। ‌ দেখা গেল তিনি নিজে একজন শিল্পপতি হয়েও উইপ্রো প্রতিষ্ঠাতা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সরব হলেন।

একটি বহুল প্রচলিত সংবাদপত্রের আজিম প্রেমজি জানিয়েছেন, ব্যবসার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ‌ শ্রমিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন তুলে দিচ্ছে অথবা ইতিমধ্যেই তুলে দিয়েছে । আর সেটাই শুনে খারাপ লেগেছে তার। সম্প্রতি শোনা গিয়েছে ট্রেনের ধাক্কায় ১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিকের প্রাণ গিয়েছ । এই বিষয় তদন্ত হচ্ছে।

প্রেমজির‌ মতে , এই মৃত্যুর ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। বিষয়টিকে তিনি একেবারেই হালকাভাবে নিতে চান না। তিনি এ ঘটনার জন্য নিজেদের সহ সকলকেই দায়ী করেছেন যারা এই সমাজটা তৈরি করেছে। এই বিয়োগান্ত এমন একটা ঘটনা সচকিত করে দিল দেশের কোটি কোটি মানুষ কতটা ‌চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে যারা দুর্বল এবং দরিদ্র। একই রকম ভাবে তিনি খুব আঘাত পেয়েছেন শুনে যে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ব্যবসায়ীদের দ্বারা উৎসাহিত হয়ে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য থাকা শ্রম আইন তুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন অথবা তা তুলে দিয়েছেন।

এসব আইনগত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে শ্রম বিরোধ, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কাজের শর্ত ,ন্যূনতম মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক এবং পরিযায়ী শ্রমিক। এই শিল্পপতি ১৬ জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে মনে করিয়ে দিয়েছেন, এদের কোনও সামাজিক নিরাপত্তা নেই এবং সামান্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও অতি সামান্য। শুধুমাত্র কাঠামোগত দারিদ্র আর বৈষম্য নয়, অতি মহামারীর সময় এইসব কারনেই কোটি কোটি মানুষের জীবন বিদীর্ণ, ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানিয়েছেন, তার কর্মজীবনের পুরোটাই শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রম আইন নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন। গত ৫০ বছরে তাকে যে কঠোর শ্রম আইন এবং অযৌক্তিক শ্রমিক ইউনিয়নের মুখোমুখি হতে হয়নি তা নয়। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে শিল্পের ক্ষেত্রে অন্তরায় এমন কারণ দেখিয়ে শ্রম আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে না। তার ফলে কর্মক্ষেত্র অনিশ্চয়তার দিকটা আরো খারাপ হচ্ছে।

এইভাবে আইন শিথিল করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা যাচ্ছে না। গরিব এবং কম মজুরিপ্রাপ্তদের‌ দুরাবস্থা আরও ‌ বাড়িয়ে তুলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিক এবং ব্যবসার একে অপরের প্রতি বিরুদ্ধাচারণের প্রবণতার কুয়ো খোড়া হচ্ছে। এটা পুরোপুরি ভুল মনোনয়ন হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। গত কয়েক সপ্তাহে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সে দিকে তাকাতে বলেছেন তিনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে যা করা হয়েছে তা শ্রমিক এবং ব্যবসার সামাজিক চুক্তিকে কলুষিত করেছে। যা আলোড়ন তুলেছে শ্রমিকদের নতুন গণ বিপরীত স্থানান্তর, ব্যবসাকে নষ্ট করছে।

এমন পদক্ষেপ শুধুমাত্র অনায্য নয় ত্রুটিপূর্ণ,বিশেষত এই অতর্কিত অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে যেখানে শ্রমিক এবং ব্যবসার স্বার্থ গভীরভাবে সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো। তিনি বরং অন্য বৃহৎ ইস্যুগুলির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে বলেছেন। অর্থনৈতিক সংকট গ্রামীণ কৃষি ক্ষেত্রকে চরমভাবে ক্ষতি করছে, আর তার বেশি না হলেও প্রায় সমান সংকটে স্বনিযুক্ত এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা যা ছড়িয়ে রয়েছে গ্রাম ও শহরের অসংগঠিত অর্থনীতিতে। সংগঠিত ক্ষেত্রের চেয়ে এই ক্ষেত্র জড়িয়ে রয়েছে অনেক বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I