কলকাতা: পঁচিশ বছর আগে এমনই এক নভেম্বরে ফ্লাডলাইটের আলোয় প্রথম ওয়ান ডে দেখেছিল ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন। প্রেক্ষাপট সিএবি জুবিলি টুর্নামেন্ট। দিওয়ালির পর কলকাতায় ক্রিকেটের মেগা আসর। হিরো কাপের হাইভোল্টেজ ফাইনালে মহম্মদ আজহারঊদ্দিনের ভারত মুখোমুখি রিচি রিচার্ডসনের ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেদিন ফাইনালে ক্যারিবিয়ান ইনিংসে ৩৩ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসটা লেখা ছিল তাঁর নামেই। তিনি ব্রায়ান চার্লস লারা।

ভারতের ২২৫ রানের জবাবে ক্যারিবিয়ানরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৩ রানেই। অনিল কুম্বলের বিষাক্ত স্পিনের ছোবলে ফাইনাল জেতা হয়ে ওঠেনি ক্যারিবিয়ানদের। ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সেদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং লাইন আপ একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘জাম্বো’।

আরও পড়ুন: বাগানের প্রাক্তন ক্রোমাকে নিয়ে সতর্ক শংকর

ঠিক পঁচিশ বছর বাদে নভেম্বরের সন্ধ্যায় শহর কলকাতায় পা রেখে ১৯৯৩ হিরো কাপ ফাইনালের স্মৃতিতে ডুব দিলেন ব্রায়ান লারা। পাশে তখন পঁচিশ বছর আগের সেই ম্যাচের স্মৃতি গায়ে মেখে বসে রয়েছেন মেগা ফাইনালে তাঁরই দলের সতীর্থ কার্ল হুপার এবং সেদিনের বিপক্ষ দলনায়ক মহম্মদ আজহারঊদ্দিন।

আরও পড়ুন: টেল এন্ডারদের ব্যাটে লড়াইয়ের রসদ পেল বাংলা

শুক্রবারের সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে প্রাক্তন সিএবি সভাপতি তথা ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাণপুরুষ জগমোহন ডালমিয়ার দ্বিতীয় কনক্লেভ অনুষ্ঠানে একটি প্যানেল ডিসকাশনে অংশগ্রহণ করেন ব্রায়ান লারা, কার্ল হুপার, মহম্মদ আজহারঊদ্দিন, রোহিত শর্মা এবং সৌরভ গাঙ্গুলি। সেই ডিসকাশনেই লারা, আজহারঊদ্দিন কিংবা কার্ল হুপারের মুখে বারবার ফিরে এল হিরো কাপ ফাইনালের স্মৃতি। ফাইনাল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লারা-হুপাররা একবাক্যে মেনে নিলেন সেদিনের ম্যাচে কুম্বলের ডেলিভারি বোঝা সম্ভব হয়ে ওঠেনি তাঁদের পক্ষে। যদিও ফাইনালে লারার উইকেটটি নিয়েছিলেন তাঁর অভিন্ন হৃদয় বন্ধু সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। সর্বকালের সেরা বাছতে বসে যে দু’জনের নাম আজও একইসাথে উচ্চারিত হয়।

আরও পড়ুন: ইডেনে টেস্ট খেলতে না পারার আক্ষেপ লারার

প্যানেলে আজহারঊদ্দিনের অধিনায়কত্বের প্রশংসাও শোনা গেল ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তিদের গলায়। ছয় রান হাতে নিয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শেষ ওভারে সচিনের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন যিনি। আর ডোনাল্ডকে দাঁড় করিয়ে সেই ম্যাচে বাজিমাৎ করেছিলেন লিটল মাস্টার। হিরো কাপ সেমিফাইনালের ওই ঘটনাকে এদিনের অনুষ্ঠানে ‘ক্রিকেটজীবনের অন্যতম সেরা ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন আজহারঊদ্দিন।

কাকতালীয়ভাবে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কার্ল হুপার, মহম্মদ আজহারঊদ্দিন এবং রোহিত শর্মা তিনজনেরই টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল ক্রিকেটের নন্দনকাননেই। কিন্তু লারার গলায় ইডেনে টেস্ট খেলতে না পারার আক্ষেপ শোনা গেল এদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.