রামপুর (উত্তরপ্রদেশ): ‘লোক দেখানো’ কাজ করছেন মোদী৷ মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে মোদী সরকারের পদক্ষেপকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন সমাজবাদী দলের সাংসদ আজম খান৷ তাঁর মন্তব্য, ‘‘মাদ্রাসা থেকে নাথুরাম গডসে বা প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের মতো মানসিকতার লোক বেরোয় না৷’’

মাদ্রাসা শিক্ষাকে দেশের মূল ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে৷ সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের৷ রামপুরের সাংসদ মনে করেন এতেই মাদ্রাসা শিক্ষা বা দেশের মুসলিম পড়ুদের উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ এর বদলে প্রয়োজন ছিল মাদ্রাসাগুলোর পরিকাঠামোর উন্নয়ে পদক্ষেপ করা৷ কিন্তু তা হচ্ছে না৷ ফলে পুরো বিষয়টিই লোক দেখানো৷

আরও পড়ুন: মাদ্রাসা শিক্ষায় মোদী সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত ইমামদের

আজম খান বলেন, ‘‘মাদ্রাসা শিক্ষায় এর আগেও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োগ হয়েছে৷ ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞানের পাঠ সেখানে দেওয়া হয়৷ সঙ্গে পড়ানো হয় ধর্মের নানা পাঠ৷’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বহু মাদ্রাসার পরিকাঠামো বেহাল৷ প্রয়োজন সেগুলোর উন্নতি করা৷ না হলে অবস্থার বদল অসম্ভব৷ দরকার ছিল মাদ্রাসার ঘর তৈরি করা, বই খাতা দেওয়া, মিড ডে মিল চালু করার মতো বিষয়গুলি৷’’

নাথুরাম গডসে বা বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে নিয়ে আজম খানের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক মাথাচাড় দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ ভোটের প্রচারে গডসেকে উদ্দেশ্য করে কমল হাসান বলেছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী একজন হিন্দু৷ বিজেপির তরফে প্রবল বিরোধীতা করা হয়৷ অন্যদিকে, মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর৷ মুম্বই বিস্ফোরণে শহিদ হেমন্ত করকরেকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যেও ঝড় বয়ে যায়৷

আরও পড়ুন: কাশ্মীরের রয়েছে বাংলাদেশ, যেখানে অকেজোই থাকবে এনআরসি ইস্যু

মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিক নয়৷ ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই তাই মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ মঙ্গলবাই সমখ্যালধু উন্নয়নমন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি এবিষয়ে ট্যুইট করেন৷ সেকানে তিনি লেখেন, সমাজের উন্নয়নে মুললিমদের অবদান সুনিশ্চিৎ করতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে দেশের মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত করা হবে৷ মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও মূল ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ আগামী মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে এই কর্মসূচি৷

তাহলে কী মাদ্রাসায় ধর্মভিত্তিক শিক্ষা হবে না? এই ট্যুইটের পরই শুরু হয় বিতর্ক৷ নাকভি জানিয়ে দেন, ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় আঘাত করা হবে না৷ কিন্তু বর্তমান প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে৷ তবেই তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে৷ তার প্রয়োজনেই এই পদক্ষেপ৷

আরও পড়ুন: জরুরী পরিষেবা দিয়েই আক্রান্ত আলোপ্যাথি ডাক্তারদের পাশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা

এরপরই দেশের বিভিন্ন মসজিতের ইমামরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান৷ ইমাম উমর ইলাসি বলেন, ‘বিগত দিনে সংখ্যালঘু শিক্ষা নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি৷ কিন্তু, এটা বড় সিদ্ধান্ত৷ এবার হয়তে দেশের উন্নয়নে আমাদের ছেলে মেয়েরা প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিতে পারবে৷’ এর জন্য কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নন মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এলাসি৷

আলিগড়ের এক ইমাম রেহান আক্তার কুয়েসমি বলেন, ‘‘এর আগে এই ধরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল৷ কিন্তু কার্যকর হয়নি৷ আশা করব মোদী সরকার এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করবে৷ এর সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতো বাস্তবায়িত হবে দেশের পাঁচ কোটি মুসলিম পড়ুয়াকে বৃত্তি দেওয়ার বিষয়টিও৷’’ প্রধানমন্ত্রী মোদী ঈদের দিনই সংখ্যালঘু মুসলিম পড়ুয়াদের বৃত্তি দেওয়া বিষয়টি ঘোষণা করেন৷