নয়াদিল্লি:  দেশের মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ক সুযোগ সুবিধা দিতে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পটি গত বছরেই আনে মোদী সরকার। সমাজের বড় অংশের মানুষকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনতে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করে এই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ১০ কোটি গরিব পরিবারকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনতে চায় কেন্দ্র। প্রতিটি পরিবারকে সর্বাধিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বীমার সুযোগ দেওয়া হবে এক্ষেত্রে। মোদীর এই প্রকল্প কতটা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, এই প্রকল্প ঘোষণা হওয়ার পরপরই এই বিষয়ে সমীক্ষা চালায় বণিকসভা অ্যাসোচেম। আর সেই সময় এই বণিকসভার চালানো সমীক্ষা জানায়, খুব শীঘ্রই জোয়ার আসতে চলেছে ভারতের বীমা শিল্পে।

অ্যাসোচেম দাবি ছিল, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিমা ক্ষেত্রেই শুধু সুদিন আসবে এমন নয়। বিপুল হারে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। হাসপাতালগুলিও তাদের ব্যবসা অনেকটাই বাড়াতে পারবে বলে মনে করা হয়। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার ১২ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটি কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে সেই বিষয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল অ্যাসোচেম।

প্রসিদ্ধ মার্কেট রিসার্চ সংস্থার করা সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে ভারতের বীমা শিল্পে যুগান্ত আসতে চলেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বীমার বাজারের ব্যবসার অংক পৌঁছে যাবে ২৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৯ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা। যা সম্ভব হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের দৌলতেই।

কীভাবে সুবিধা পাওয়া যায় এই আয়ুষ্মান ভারত স্কিমে: ১. প্রত্যেক বছর প্রতি পরিবার পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবীমা পাবেন। ২. ডেটাবেস অনুযায়ী দরিদ্র পরিবারগুলিকে এর আওতায় আনা হবে। মোট ১০ কোটি পরিবার এর আওতায় আসছে। ৩. একাধিক রোগ কভার করবে এই স্কিম।

৪. Socio-Economic Caste Census -এর ডেটাবেস অনুযায়ী, যারা দরিদ্র বা প্রান্তিক হিসেবে চিহ্নিত, তাদেরকেই এই সুবিধা দেওয়া হবে। এই ক্যাটাগরির জন্য বেশ কিছু মাপকাঠি রয়েছে। যেমন, যদি কোনও পরিবারের কাঁচা ছাদ বা কাঁচা দেওয়াল থাকে, মহিলাকেন্দ্রিক পরিবারে যদি ১৬ থেকে ৫৯ বছরের কোনও পুরুষ না থাকে, পরিবারে যদি কোনও প্রতিবন্ধী থাকে ও প্রাপ্তবয়স্ক কোনও সদস্য না থাকে, তফশিলী জাতি ও উপজাতির পরিবার ও জমি হারানো পরিবারকে এই সুবিধা দেওয়া হবে বলে আয়ুস্মান ভারত স্কিমের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. যে পরিবারের কোনও আশ্রয় নেই, ভিক্ষা করে বাঁচে, ঝাড়ুদারের পেশায় রয়েছে, আদিবাসী পরিবার এর আওতায় আপনা থেকেই চলে আসছে। ৬. পরিবারের সদস্য সংখ্যার উপর এই স্কিম নির্ভর করবে না। তবে মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে। ৭. এই স্কিমের আওতায় হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসা দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ৮. হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরের চিকিৎসার জন্যও পাওয়া যাবে এই সুবিধা।

৯. যে কোনও একটি আইডি নিয়ে হাসপাতালে গেলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ১০. সব সরকারি হাসপাতাল এবং কিছু বাছাই করা বেসরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

যদিও কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের বিরোধিতা বার বারই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে বারবার মোদী সরকারের তরফে বারবার রাজ্য সরকার তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু কোনও মতে রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র সুবিধা দিতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন। যদিও মমতা সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পে সাধারণ মানুষ আরও কিছু সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন।